শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নারায়ণপুরে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ১১:৩৯ পিএম
নারায়ণপুরে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, আটক ২

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় অর্তকিত হামলা চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে আহত করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। গত সোমবার (১৯ মে-২০২৫) রাতে উপজেলার নারায়ণপুর পশ্চিম বাজারে কালিবাড়ির রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ব্যবসায়ীর নাম আব্দুল্লাহিল কাফি (৫০)। সে নারায়ণপুর বাজারে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার স্বত্ত্বাধিকারি। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি এজহার করেছেন। এজহারের পর অভিযান চালিয়ে হামলার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালেহ্ আহাম্মদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের “আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক” এর এজেন্ট শাখার স্বত্ত্বাধিকারি আব্দুল্লাহিল কাফি সোমবার রাত ১০টার দিকে এজেন্ট ব্যাংক থেকে বাসায় যাওয়ার পথে নারায়ণপুর কালিবাড়ির রাস্তায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে উপজেলার ঘিলাতলী এলাকার মাঈনউদ্দিনের ছেলে শাকিল, একই এলাকার রাকিব ও মাছুয়াখাল এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ মাদক সেবন করছিল।

Model Hospital

এ সময় আব্দুল্লাহিল কাফি তাদেরকে মাদক সেবন করতে বাঁধা দেয়। মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় মজিবুর রহমান, মাঈন উদ্দিন, শাকিল, রাকিব ও নাহিদসহ অজ্ঞাত কিশোর গ্যাং সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে কাফির উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় আব্দুল্লাহিল কাফিকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি পিঠিয়ে ও ধারালো ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাত্ত জখম করে হামলাকারিরা।

এ সময় আব্দুল্লাহিল কাফির ডাক-চিৎকারে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তারসহ আশপাশের দোকানদাররা এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। হামলার সময় কাফির ব্যাগে থাকা এজেন্ট ব্যাংকের মূল্যবান কাগজপত্র ও নগদ ২ লক্ষ ৮০ আশি হাজার টাকা ছিনিয়া নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আব্দুল্লাহিল কাফিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা বেগতিক দেখে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

হামলার শিকার আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় তারা আমার উপর অতর্কিত হামলা হামলা করেছে। তারা প্রতিদিন কালিবাড়ির রাস্তায় আড্ডা দেয়। এসময় তারা মেয়েদের ইভটিজিং করে এবং রাত হলে মাদক সেবন করে। এই মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা করে তারা।

অভিযুক্ত মাঈন উদ্দিন জানান, কাফি প্রথমে ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে গালাগালি করে। পরে তাদের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। আমি মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছি। অপর অভিযুক্ত নাহিদ বলেন, আমি খাওয়ার পানি আনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাফি কাকা আমাকেও মারধর করে।

স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, নারায়ণপুর কালিবাড়ির এই রাস্তাটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর পযর্ন্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আড্ডা চলে। এসময় তারা স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে ইভটিজিংসহ মাদক সেবন করে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। দুইজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’