শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের এক বাগানে বিশ্বখ্যাত ৫৭ জাতের আম চাষ করে বাজিমাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫, ৭:২৬ পিএম
চাঁদপুরের এক বাগানে বিশ্বখ্যাত ৫৭ জাতের আম চাষ করে বাজিমাত

দেশের মাটিতে বিশ্বখ্যাত ৫৭ জাতের আম চাষ করে সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। চাঁদপুর সদরের শাহতলী বাজার এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো নামে একটি খামার। পরিত্যক্ত ইটভাটায় কেমিক্যাল ও বিষমুক্ত বিদেশি নানা ফল আর সবজি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হেলাল উদ্দিন।

ফ্রুটস ভ্যালি ঘুরে দেখা গেছে, পুরো বাগানজুড়ে আড়াই শতাধিক আম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছের ডালে রং-বেরঙের আম ঝুলছে। এমন দৃশ্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। যদিও আমের রং দেখে বোঝার উপায় নেই আমগুলো এখনো অপরিপক্ব। তবে আর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই আমগুলো পাকা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। তার এই বিদেশি ৫৭ জাতের আমের বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই ভিড় জমান।

উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিনের বাগানে রয়েছে বিশ্বখ্যাত আম ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, লেমনজেস্ট, রোসারোসা, আতাউল্ফ, কারাবাও, আলফানসো, মায়া, হাডেন, সেনসেশন, আর-টু ই-টু, ক্যাংসিংটন প্রাইড, মিয়াজাকি, ব্ল্যাকস্টোন, জাম্বো রেড চাকাপাত, নামডকমাই, এসআর ম্যাংগো, ফ্রাংসিস, ব্রুনাই কিং, কেষার, মল্লিকা, তোতাপুরি, হানিডিউসহ বিভিন্ন জাতের আম আছে।

এছাড়া বাগানটিতে বিদেশি আমের পাশাপাশি ১৭ জাতের সাইট্রাস, কমলা, ম্যান্ডারিন, মাল্টা, লেমন, ২১ ধরনের আঙুর, ১২ প্রজাতির লংগান, ৪ প্রজাতির রাম্বুটান, ৭ ধরনের ড্রাগন ফল, ৪ জাতের লিচু ও ৭ প্রজাতির অ্যাভোকাডো, ৬ জাতের আতা, ৫ জাতের আপেল, ম্যাংগোস্টিন, অ্যাপ্রিকট, করোসল, মাম্মি সাপুটেসহ আরও বেশ কিছু দেশি-বিদেশি ফলগাছ রয়েছে।

Model Hospital

উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, সারা বিশ্ব থেকে উচ্চ মূল্যের ও উচ্চ মানের ফল জমিতে চাষ করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, পরিত্যক্ত একটি ইট ভাটার মধ্যে এসব বিদেশি ফলের চাষ করা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের মধ্যে ২০ ধরনের আমই এই বাগানে রয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর ৫৭ জাতের আম চাষ করা হয়েছে। বিশ্বের সব দামি আমগুলো নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, গত বছর এই বাগান থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এই বছর আশা করছি দুই শতাধিক গাছ থেকে ৭ লাখ টাকারও বেশি আয় করতে পারবো। আমি মনে করি কৃষি উদ্যোক্তা ও বেকার যুবকেরা এই জাতের আম চাষ করতে পারলে সুফল পাবে।

আম বাগানে ঘুরতে আসা মির্জা জাকির ও কামরুল ইসলাম সৈকত বলেন, পরিত্যক্ত ইটভাটার মাটিতে আম চাষ করা যায়, সেটা এখানে এসে দেখেই মুগ্ধ হয়েছি। সাধারণ মাটিতে বিদেশি আমের চাষ করে সফলতা পাওয়া সত্যিই অন্যরকম দৃশ্য। তিনি যেভাবে গড়ে তুলেছেন আমরা হয়ত এভাবে পারবো না। তবে তার কাছ থেকে আমের চারা নিয়ে বাড়ির আঙিনা ও ছাদ বাগানে লাগাতে পারবো।

চাঁদপুর ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি ডাকাতিয়ার পাড়ে একটি আমের বাগান রয়েছে, তার জন্য আমি নিজেই দেখতে চলে এলাম। আসলেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে বাগানটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে আমগুলো প্রাকৃতিকভাবে বড় হয়েছে এবং ভেজালমুক্ত। আমি আশা করি হেলাল উদ্দিনের দেখাদেখি অন্যরাও এমন উদ্যোগ শুরু করবেন।

বিশেষ করে বাগানের প্রেস আমগুলো ভোক্তা সাধারণ এখানে এসে কিনতে পারবেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’