শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সফল খামারি

কোরবানির জন্যে জনপ্রতিনিধি মোজাম্মেলের দুই শতাধিক গরু-মহিষ প্রস্তুত

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ১০:০২ পিএম
কোরবানির জন্যে জনপ্রতিনিধি মোজাম্মেলের দুই শতাধিক গরু-মহিষ প্রস্তুত
জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন তিনি। কাটিয়েছেন এক দীর্ঘ প্রবাস জীবনও। তবে ছোটবেলা থেকেই পশুপালনের প্রতি ছিল গভীর টান। সেই শখ থেকেই মাত্র চার বছর আগে গড়ে তোলেন ‘মোস্তাকিম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড এগ্রো’— যার প্রতিষ্ঠাতা ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহদ গ্রামের বাসিন্দা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী মোজাম্মেল হোসেন।
খামারটি এখন রূপ নিয়েছে বিশাল এক সফল উদ্যোগে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সেখানে প্রস্তুত রয়েছে দুই শতাধিক গরু ও মহিষ। প্রতিটি পশুর দাম শুরু ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব গরু ও মহিষ পালন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ অর্গানিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
খামারের কর্মচারীরা জানান, বিশুদ্ধ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে খামারে রয়েছে ১৫-১৬ একর জমিতে ঘাসের চাষ। এসব ঘাস ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে খামারে আনা হয়। পশুগুলোকে খাওয়ানো হয় নিজেদের চাষ করা ঘাস, খড়, গমের ভুষি, লবণ, খৈল এবং ছোলার ভুষি। প্রতিটি পশুকে রাখা হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে, যাতে করে তারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
খামারটি শুধুমাত্র পশুপালনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন অন্তত ১৫ জন যুবকের কর্মসংস্থানের উৎস হয়ে উঠেছে। হাজী মোজাম্মেল বলেন, “জনপ্রতিনিধি থাকাকালে চেষ্টা করেছি কাজকে এবাদতের মতো করে দেখতে। এখন খামারের মাধ্যমে মানুষের আমিষ ও দুধের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারছি— এটা আমার জন্য গর্বের।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমন ভৌমিক জানান, হাজী মোজাম্মেল হোসেন বর্তমানে একজন আদর্শ খামারি হিসেবে বিবেচিত। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তার খামার পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি বলেন,
“উনার উদ্যোগ দেখে অনেক তরুণ এখন খামার গড়তে আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে ভবিষ্যতে আর ঘাটতি থাকবে না।”
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়াও এই খামারকে আদর্শ খামার হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সবকিছু পেরিয়ে হাজী মোজাম্মেল আজ একজন প্রকৃত উদ্যোক্তা। অর্গানিক পদ্ধতিতে গরু পালন করে তিনি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।”

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’