শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর রেলওয়ে বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫, ১১:২২ পিএম
চাঁদপুর রেলওয়ে বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা

চাঁদপুর রেলওয়ে এলাকায় বিগত প্রায় ১ মাস যাবত পরিস্কার পরিচ্ছনতা অবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এতে করে রেলওয়ে এলাকার একটি বিশাল অংশ রেলওয়ে সম্পত্তিতে পৌর এলাকা হওয়ায় রেলওয়ে এলাকার হাজার-হাজার মানুষজন এবং পৌরবাসী টনে-টনে আবর্জনা বর্জ্যের দুর্গন্ধে কারনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাম জমাদার অপু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা চট্রগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগের আলোকে শুক্রবার(৩০মে) দুপুরে চাঁদপুরে এসেছেন,
চট্রগ্রাম বিভাগীয় ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি টিম। তারা চট্রগ্রাম থেকে সাগরিকা ট্রেন যোগে চাঁদপুরে আসেন এবং চাঁদপুর রেলওয়ে এলাকা পরিদর্শন করে দেখেন ও পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মুখোমূখি হয়েছেন।

এ টিমের প্রধান হচ্ছে, চট্রগ্রাম বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার তাহামিনা ইয়াসমিনসহ অন্য সদস্যরা চাঁদপুর রেলওয়ে অফিসার রেস্ট হাউজে পরি”্ছণ্ন কর্মীদের,স্টেশন মাস্টার,রেলওয়ে টিএক্রআর বিভাগ,বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন ব্যাক্তিদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করেন এবং চাঁদপুর রেলওয়ে এলাকা পরিদর্শন করে দীর্ঘ দিনের ভেঙ্গে পড়া পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অবস্থা সরাজমিনে প্রত্যক্ষ করেন দেখেন।

চট্রগ্রাম বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগ, চট্রগ্রাম বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্র্তা ডাক্তার তাহামিনা ইয়াসমিন ও রেলওয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ বিভিন্ন কর্মকতার সাথে আলাপকালে জানা গেছে,বিগত কয়েক বছর যাবত চাঁদপুরে রেলওয়ে হাসপাতাল বন্ধ থাকা ও রেলওয়ের চাঁদপুরে কোন সেনেটারি ইন্সিপেক্টর না থাকায় চাঁদপুর রেলওয়ে এলাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মধ্য থেকে জমাদারের দায়িত্ব অর্পন করে ঢিমেতালে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

Model Hospital

এরই মধ্যে বিগত বহু বছর রতন হরিজনকে দিয়ে সেনেটারির কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। রতন হরিজন অবসরে চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব পালন করেন,পুরানবাজারের গুপি হরিজন। গুপি হরিজন ইদানিং সময়ে অবসরে চলে যাওয়ার পর চাঁদপুর রেলওয়ের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব অর্পন করা হয় পরিচ্ছন্ন কর্মী ফেরদৌস তাজকে।

সে সুন্দর ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে বিগত বছর পূর্বে অবসরে যাওয়া জমাদারের দায়িত্বে থাকা রতন হরিজনের ছেলে পরিচ্ছন্ন কর্মী অপু দাস ফেরদৌস তাজকে সরিয়ে দিয়ে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জমাদারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অফিস ওয়ার্ডার করিয়ে দায়িত্ব পালন করার দায়িত্ব নেন।

হনিজন পরিবারের ছেলে অপু দাস পরিচ্ছন্ন কর্মী থেকে জমাদারের দায়িত্ব পালন কালে পরিচ্ছন্ন কমীদের সাথে খারাপ আচরন,তাদেরকে গালমন্দ ও তাদের কাজে বেঘাত সৃস্টি করে তাদের কাছে বিভিন্ন ভাবে উৎকোচ দাবী করে বলে অভিযোগ উঠে। যার ফলে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা চট্রগ্রাম বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা বরাবর কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করেন। ৎ

সে আলোকে চট্রগ্রাম বিভাগীয় চিকিৎসাা কর্মকর্তা ডাক্তার তাহামিনা ইয়াসমিন,সহকারী সার্জেন ডাক্তার জামাল হোসেন,বিভাগীয় কার্যালয়ের জিয়াউর রহমান,সোহেল হোসেনসহ ৫সদস্যের টিম চাঁদপুর এসে রেলওয়ে এলাকা পরিদর্শন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মুখোমূখি হয়ে তাদের বক্তব্য লিপিবব্ধ করেন। এ পরিদর্শন ও চাঁদপুরে পরি”্ছন্ন কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে ৭জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর বক্তব্য লিপিবব্ধ করেন। এ সময় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এক বাক্যে জানান,অপু দাস জমাদারের দায়িত্বে থাকলে তারা চাঁদপুরে তাদের দায়িত্ব পালন করবেনা। এ সময় স্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেন,শোহেবুল শিকদার ,টিএক্রআর বিভাগ,বিদ্যুৎ বিভাগসহ সকর শ্রেনীপেশার লোকজন রেলওয়ে জমাদার আওয়ামীলীগের প্যাসিবাদ অপুদাসের অপসারনের দাবী জানিয়েন।

এ বিষয়ে চট্রগ্রাম বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার তাহামিনা ইয়াসমিন বলেন,জমাদার অপু দাসের বিরুব্ধে তদন্ত করার জন্য চাঁদপুর এসেছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা’মিডিয়াকে জানিয়ে দেওয়া হবে। দেখেন কি ব্যবস্থা নেওযা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, অপু দাস ২০১৩ সালে চাঁদপুরে চাকরীতে যোগদানের পর থেকে চাকরী না করে স্থানীয় অফিসকে ম্যানেজ করে শহরের চেয়াম্যান ঘাট এলাকায় ব্যবসা করছেন বলে তদন্ত কালে প্রতিনিধি দলকে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অভিযোগ করেছে বলে বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানতে পারেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’