শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে ৫০ গ্রামে বিদ্যুৎবিহীন, ভেঙ্গে গেছে রাস্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫, ৮:০৫ পিএম
মতলবে ৫০ গ্রামে বিদ্যুৎবিহীন, ভেঙ্গে গেছে রাস্তা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় এবং মুষলধারে বৃষ্টি -ধমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় অধিকাংশ কাঁচা রাস্তাঘাট, কালভার্টের এ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে। এছাড়া গাছ ও গাছের ঢালাপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে অর্ধশত গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

৩ দিন যাবৎ বিদ্যুৎ না থাকায় ওই গ্রামগুলোর গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ের পড় থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার নন্দীখোলা, নায়ের গাও উত্তর, সাড়পার, আচলছিলা, মধ্যে নওগাঁ, চরপয়ালী, কালিকাপুর, কাশিমপুর, বদরপুর, পুরণ, টেমাই শিবপুর, চাপাতলী, বাড়ৈগাঁও, লেকোডা, পয়ালী, মনিগাঁও, গাবুয়া, মতলব পৌরসভার নলুয়া, দুরগাঁও, দিঘলদীসহ ৪৮ টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

Model Hospital

সাড়পাড় গ্রামের গ্রাহক মিঞা মামুন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

শনিবার দুপুরে একবারের জন্য বিদ্যুৎ আসেনি। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও জানা যায়নি কখন বিদ্যুৎ আসবে। মধ্য নওগাঁও গ্রামের গ্রাহক নুসরাত জাহান মুন অভিযোগ করেন, বিগত ৩ দিন আমরা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছি। বিদ্যুৎ অফিসের মোবাইল নাম্বার একাধিকবার যোগাযোগ করেও সঠিক জবাব পাইনি।

নলুয়া গ্রামের গ্রাহক খান মাসুদ, আচলছিলা গ্রামের হুমায়ুন কবির, বাড়ৈগাঁও গ্রামের মোস্তফা কামাল ও চরপয়ালীর রাসেল মিজী বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর‌্যন্ত আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেন না।কখন বিদ্যুৎ আসবে এটাও আমরা জানতে পারছি না।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব দক্ষিণ উপজেলার জোনাল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের ঘুর্ণিঝড়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় গাছ ও গাছের ডালা এবং বাঁশ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেখানে একাধিক টীম কাজ করছে। যেখানে কাজ সমাধান করা হয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে। আজকালের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়ে যাবে।

অপরদিকে মুশলধারে বৃষ্টি হওয়ায় মতলব উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর, নায়েরগাঁও দক্ষিণ, উপাদী উত্তর, উপাদী দক্ষিণ, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন এবং মতলব পৌরসভা ও নারায়ণপুর পৌরসভার টিআর/কাবিখার করা চলমান কাঁচা রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে। নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মোল্লা বলেন, গত দুদিনের মুশলধারে বৃষ্টিতে নবনির্মিত ৩ টি কাঁচা মাটির রাস্তা ভেঙে গেছে।

উপাদদী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ প্রধান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুশলধারে বৃষ্টি -ধমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় ডিঙ্গাভাঙ্গা হইতে রাজারগাঁও কাঁচা রাস্তার অর্ধেকের বেশী ভেঙে গেছে।

ঠিকাদার কামাল ফরাজী বলেন, কয়েকদিনের বিরামহীন বৃষ্টির কারনে খাদেরগাঁও ইউনিয়নের লামচরী-খাদেরগাঁও সড়কের একটি নির্মানাধীন ব্রীজের দুপাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে খাদে চলে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঘুর্ণিঝড় ও মুশলধারে বৃষ্টি হওয়ায় চলতি অর্থবছরের টিআর, কাবিখার প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার নব নির্মিত কাঁচা রাস্তা ভেঙে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া ২০ টি নব নির্মিত ব্রীজের ৫/৭ টির এপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। ক্ষয় ক্ষতির তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’