শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাহায্যে বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ জুন, ২০২৫, ৮:০৩ পিএম
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাহায্যে বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসির

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চাঁদপুর শহরের ঘোলঘরস্থ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের সভাপতি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনকে ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদন বই তুলে দেন গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দগণ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চাঁদপুর শহরের ঘোলঘরস্থ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১জুন (রবিবার) দুপুর ১টায় চাঁদপুর প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা চাঁদপুর জেলা প্রশাসক  সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, চাঁদপুরের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাহায্যে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে পারেন।
চাঁদপুরের প্রবাসীরাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারেন। অত্র  বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জন্য সমাজের দানশীল ধনার্ঢ্য ব্যক্তিরা ১৫ শতাংশ ভূমি দান করতে পারেন।সেখানে আমি সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিবো স্কুলের জন্য ভবন করার জন্য।
চাঁদপুরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের জন্য সরকারের তরফ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করবো। আপনারা যারা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করেন তারা সমাজের আলোকিত মানুষ। বিদ্যালয়ের জন্য কিছু ফান্ড তৈরি করেন। অনেক দানশীল ব্যক্তি আছে, তারা সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য চাঁদপুর পৌর এলাকার বাহিরে জমি দেখেন, আমি আমার তরফ থেকে সহযোগিতা করবো। এছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমার সহযোগিতা থাকবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রতিমা রানী ভৌমিক এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য চাঁদপুর প্রেসক্লাব এর সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন নন্দী, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চাঁদপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ মো: ইসমাইল তপাদার কাঞ্চন, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক সুমন খান, চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসাদ্দেক, চাঁদপুর জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো: নজরুল ইসলাম, সদস্য  বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মজিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. তাজুল ইসলাম মজুমদার, সহকারি শিক্ষক মো: মোরশেদ আলম খান প্রমুখ।
সভা শেষ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের সভাপতি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনকে ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদন বই তুলে দেন গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দগণ।
এছাড়াও সভায় বিদ্যালয়ের জনবল সংকট সমাধানের জন্য বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া, বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা বিচিত্রা সাহার স্থলে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া, বিদ্যালয়ের জন্য পৌর এলাকা ও পৌর এলাকার বাইরে নতুন করে ভূমি বরাদ্ধের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং অনুমোদন করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’