শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতে এবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১১:৩৬ এম
ভারতে এবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ৭

বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ভয়াবহ বিমানবিপর্যয় ভারতের আকাশে। রোববার (১৫ জুন) ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখণ্ডে কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশীর পথে যাত্রাকালে একটি আরিয়ান এভিয়েশন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন পাইলট এবং একজন শিশু তীর্থযাত্রী রয়েছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর গৌরীকুণ্ড ও সোনপ্রয়াগের মাঝামাঝি একটি দুর্গম জঙ্গলে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের সবাই তীর্থযাত্রী: উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডিপার্টমেন্ট অথরিটি (UCADA) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে সাতজন আরোহী ছিলেন—একজন পাইলটসহ ছয়জনই তীর্থযাত্রী, যাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। নিহত তীর্থযাত্রীরা ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের বাসিন্দা।

ছয় সপ্তাহে পঞ্চম দুর্ঘটনা: প্রতিবছরের মতো এবারও কেদারনাথ মন্দির খোলার পর থেকে পুণ্যার্থীদের চাপ বেড়েছে। এ বছর ২ মে মন্দির খোলার পর ছয় সপ্তাহে এটি পঞ্চম হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা। বারবারের দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Model Hospital

আবহাওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটির সন্দেহ: প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও খারাপ আবহাওয়ার দিকটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ: উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (টুইটার)–এ এক পোস্টে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সহায়তা দিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি গুজরাটে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: এর মাত্র তিন দিন আগেই (১২ জুন) ভারতের গুজরাটে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি ২৩২ জন যাত্রী এবং ১০ জন ক্রু নিয়ে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বিমানটি বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে ২৭০ জন নিহত হন—তাদের মধ্যে ২৪১ জনই ছিলেন যাত্রী ও ক্রু সদস্য।

ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রয়াত সাবেক এমপি ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান(৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি  জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।