শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বিক্রি হওয়া সেই নবজাতক ফিরল মায়ের কোলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১:২০ পিএম
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বিক্রি হওয়া সেই নবজাতক ফিরল মায়ের কোলে

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : সন্তান জন্মদানের পর হাসপাতালের খরচ শোধ করার মতো সামর্থ ছিল না চাঁদপুরের এক দম্পতির। অর্থ জোগাড় করতে না পেরে আড়ালে ছিলেন সন্তানের বাবা আলম। কিন্তু, ঝামেলায় পড়ে যান মা তামান্না বেগম। খরচ মেটাতে সদ্যজাত সন্তানকে বিক্রি করে দেন এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে। নিজের সন্তানকে আদর করার সুযোগও পাননি তিনি। গত বুধবার সন্তানকে অন্যের কোলে দেওয়ার পর থেকেই পাগলপ্রায় ছিলেন সেই মা।

এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরই নজরে আসে প্রশাসনের। অবশেষে মায়ের কোল ফিরে পায় সেই নবজাতক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এক প্রবাসীর স্ত্রী ওই নবজাতককে অর্থের বিনিময়ে দত্তক নিয়েছিলেন। তাঁদের তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাই, ছেলে শিশুটিকে লালনপালন করার জন্য নিয়েছিলেন।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী মো. শরিফুল হাসান বলেন, ‘নবজাতকের মা ও নানি স্বীকার করেছেন, মূলত আর্থিক সমস্যার কারণে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে শিশুটি বিক্রি করে দেন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি এবং রাতে ষাটনল এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিই।’

Model Hospital

আলম-তামান্না দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তামান্না গত ২৬ জানুয়ারি প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পালস-এইড জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় তৃতীয় সন্তানের। হাসপাতাল ও ওষুধের ব্যয় বহন করতে না পেরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সে ফুটফুটে ছেলেসন্তানকে এক দম্পত্তির কাছে বিক্রি করে দেন তামান্না।

তামান্না ছেংগারচর পৌরসভার বারোআনি গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ বছর আগে পাশের হানিরপাড় গ্রামের দিনমজুর আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

অসহায় তামান্না বেগম বলছিলেন, ‘হাসপাতালে অপারেশনের পরপরই টাকা চাওয়া হয়। আমি গরিব মানুষ, টাকা দেব কোথা থেকে? একজন আমাকে বিনামূল্যে রক্ত দিলেও হাসপাতালে রক্তের বিল দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অপারেশন, ওষুধপত্র আর আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা হয়। কারও কথায় আমি সন্তান দিইনি। পরে যখন হাসপাতালের বিল পরিশোধ এবং নিজের চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছিলাম না, তখনই সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। যদিও এর আগে কাউসার নামের একজন সন্তান বিক্রি করব কি না আমার কাছে জানতে চান। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে একজনের সঙ্গে কথা বলে ৫০ হাজার টাকায় আমার সন্তানকে বিক্রি করে দিই।’

সন্তানকে বিক্রির পর তামান্না বেগম বলেছিলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে তাঁর সন্তান ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তা না হলে আমার সঙ্গে আর সংসার করবে না বলেও হুমকি দিয়েছে। তখন টাকার জন্য সন্তানকে বিক্রি করলেও এখন আমার সন্তানের জন্য কষ্ট হয়। আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। জানি না আমি আমার সন্তানকে পাব কি না। কারণ, তাঁরা আমার কাছ থেকে স্ট্যাম্প করেছে, এ সন্তান আমি আর কোনোদিন দাবি করতে পারব না। তার ওপর ৫০ হাজার টাকা আমার মতো গরিব মানুষ কীভাবে তাঁদের দেবে। জানি না আমার সন্তান এখন কোথায় আছে, কেমন আছে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের মালিক প্রতিনিধি লিমন সরকার বলেছিলেন, ‘বাচ্চা বিক্রির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। তাঁরা আমাদের বিশেষ কিছু জানাননি। সর্বশেষ গত দুদিন আগে যখন তিনি অপারেশনের সেলাই কাটতে আসেন তখনও আমরা তাঁর বাচ্চা কেমন আছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বাচ্চা ভালো আছে।’

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।