শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন করারোপ ছাড়া শাহরাস্তি পৌরসভার জনসম্মুক্ষে বাজেট ঘোষণা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ১০:১১ পিএম
নতুন করারোপ ছাড়া শাহরাস্তি পৌরসভার জনসম্মুক্ষে বাজেট ঘোষণা

নতুন করারোপ ছাড়া শাহরাস্তি (ক-শ্রেণির) পৌরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬৪কোটি ৫৪লাখ ৫৮ হাজার ৫শ’ ২৪ টাকার  উন্মুক্ত বাজেট প্রথমবারের মতো জনসম্মুক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষনা করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর প্রশাসক, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা।

তিনি বাজেট বক্তব্য বলেন, এবারের বাজেট পৌরবাসীর ওপর নতুন করারোপ না করে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়।

এছাড়া তিনি পৌরপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে পুঞ্জিভূত সমস্যা চিহ্নিত করে উন্নয়ন কাজে হাত দেন।

Model Hospital

যার মধ্যে নাগরিক সুবিধা সহজিকরণ, দখলীয় খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নতিকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মশক নিধন, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেন।

একই সঙ্গে পৌর কবরস্থানের জন্যে ভূমি ক্রয় করণ, ক্রয়কৃত ভূমি উন্নয়ন, পৌরসভার জন্যে ক্রয়কৃত ভূমিতে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা, পৌরসভার উন্নয়নের ১০টি প্রকল্প প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ। পৌরসভার ক্রয়কৃত ভূমিতে গরু-ছাগলের বাজার সম্প্রসারণ করা। টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের শাহরাস্তি পৌরসভায় অনুকূলে ২৪ কোটি  টাকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

পৌর এলাকায় ড্রেন নির্মাণের জন্যে ১৫ কোটি এবং ল্যান্ড ফিল্ড ১৫ কোটি ও ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আলাদা ২টি প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। বাজেট সভায় জানানো হয়, এটি ঋণমুক্ত পৌরসভা।এবারের বাজেটে সর্বমোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ’ ২৪ টাকা, একই সঙ্গে ব্যয় ৬৪কোট ৯০ লাখ টাকা এতে উদ্বৃত্ত বাজেট ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার৮ ৫শ’ ২৪ টাকা ধরা হয়েছে।

এছাড়া ভৌত অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োনিষ্কাশন, ব্রিজ, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন,  বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ বাজেটে করেন। এছাড়া স্মরণকালের নভেল করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট, চিকুনগুনিয়া, আলফা, ডেলটাপ্লাস, ডেঙ্গুর মত মহামারীর, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ম্যালেরিয়া সংক্রমণ দমনে বাজেটে বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

এবারের বাজেটে রাজস্ব হিসাব ১১ কোটি  ৯৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩৭ টাকা এবং রাজস্ব ব্যয়ের খাত ১১ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ধরা হয় ৫৪ লাখ ৫ হাজার ৩৭ টাকা। পানি রাজস্ব আয় ৯৫ লাখ ৮৫ হাজর টাকা, ব্যায় ৯৫ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ধরা হয় ৮৫ হাজার টাকা।

মোট রাজস্ব বাজেট ১২কোটি ৯২লক্ষ ৪০ হাজার ৩৭ টাকা, এতে ব্যয় ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৫৪ কোটি ৯০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

উন্নয়ন আয় ৫১কোটি ০২লক্ষ ৭৮ হাজার ৪ শ ৮৭ টাকা, এতে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ৫১কোটি ০২ লক্ষ  টাকা, উদ্বৃত্ত ধরা হয়, ৭৮ হাজার ৪ শ ৮৭ টাকা।

মুলধন হিসাব ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, এতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার, উদ্বৃত্ত ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।  সর্বমোট উন্নয়ন বাজেট ৫২কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ৪ শ ৮৭  টাকা। মোট উন্নয়ন বাজেট ব্যয় ৫২ কোটি ৫২লক্ষ  ৫০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪ শ ৮৭ টাকা।

উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকলিমা জাহান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাসার, শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান নির্বাহী রোটা: তোফায়েল আহমেদ শেখ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসহাক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাসানুজ্জামান, শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ. রহিম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক প্রতিনিধি, সেলিম পাটোয়ারী, উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা কামাল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিয়াজী, বিএনপির নেতা ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যম কর্মী, পৌরসভার বিশিষ্ট নাগরিক, অত কার্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’