শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ৭ বছর পর ধরা হায়াতের নেছা হত্যার মূল আসামি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ৮:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে ৭ বছর পর ধরা হায়াতের নেছা হত্যার মূল আসামি

২০১৮ সালে ফরিদগঞ্জে সংঘটিত হায়াতের নেছা হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামীকে আটক করেছে চাঁদপুর পিবিআই।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি রাত অনুমান সাড়ে ৯টা হতে ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত যে কোনো সময় কে বা কারা কৌশলে নিহতের বসত বিল্ডিংয়ের ভেতর ঢুকে তার শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে গলায় থাকা ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, কানে থাকা ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল, ৪ রত্তি ওজনের স্বর্ণের নাকফুল (বাজার মূল্য ১৭ হাজার ৫০০ টাকা হবে) ও হায়াতের নেছার ব্যবহৃত নকিয়া ১২০০ মডেলের মোবাইল সেট (যার মূল্য অনুমান ১৫০০টাকা) নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন থানায় অবহিত করলে পুলিশ হায়াতের নেছার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। হায়াতের নেছার সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনায় হায়াতের নেছার কপালে হালকা কালো দাগ, মুখ দিয়ে রক্ত নির্গত, যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্ত নির্গত ও গলার দুই পাশে কালো দাগ দেখা যায়।

উল্লেখিত ঘটনায় হায়াতের নেছার ভাইয়ের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন (রুবেল) (২৮) (পিতা- আ. হালিম পাটওয়ারী, সাং- পশ্চিম বড়ালী, নোয়া বাড়ি, থানা- ফরিদগঞ্জ, জেলা- চাঁদপুর) অভিযোগ দায়ের করলে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা সহ দস্যুতা মামলা রুজু হয়। ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্তের পর রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআই’র উপর ন্যাস্ত হয়।

Model Hospital

পিবিআই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পিবিআই, চাঁদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার এ.কে.এম. মহিউদ্দিন সেলিমের নেতৃত্বে ও দিক নিদের্শনায় তদন্তকারী অফিসার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) (সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির, এসআই/ বাপ্পী কবিরাজ, পিএসআই/তামিম, এএসআই/বেলাল, এএসআই/বিল্লাল, কনস্টেবল মোমেন) সহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তথ্য প্রযুক্তি ও বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামী মো. রিপন প্রকাশ রিংকু (৩৮), (পিতা- আ. জব্বার, মাতা-তাজিয়া বেগম প্ৰকাশ, সাং- পশ্চিম বড়ালী পাথৈর দিঘির পাড়, থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা- চাঁদপুর) কে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন ২০২৫) নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

আটক আসামী মো. রিপন প্রকাশ রিংকুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে সহযোগী আসামী আনোয়ার সহ বাদীদের বসত বিল্ডিংয়ের ভেতর ঢুকে হায়াতের নেছাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে তার গলায় থাকা ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, কানে থাকা ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল, ৪ রত্তি ওজনের স্বর্ণের নাকফুল ও তার ব্যবহৃত নকিয়া ১২০০ মডেলের মোবাইল সেট নিয়ে যায় মর্মে স্বীকার করে।

আসামী মো. রিপন প্রকাশ রিংকু (৩৮) কে শুক্রবার (২০ জুন ২০২৫) বিকেল ৩টায় বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্যে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’