শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে খাজা চোহরভী ও তৈয়্যব শাহ (রঃ)'র সালানা ওরছ মাহফিল

আহলে সুন্নাত এবং হক তরীকা পন্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : মুফতি ওয়াজেদ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ৮:৫৩ পিএম
আহলে সুন্নাত এবং হক তরীকা পন্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : মুফতি ওয়াজেদ

হাজীগঞ্জে খাজা চোহরভী ও তৈয়্যব শাহ (রঃ)’র সালানা ওরছ মাহফিলে মোনাজাতরত মুফতি কাজী আব্দুল ওয়াজেদসহ অন্যরা।

বাংলাদেশের তরিকতপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে সর্ব শীর্ষ মানবতাবাদী সংগঠন ‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে বিশ্বে অনন্য ত্রিশপারা দুরূদ শরীফের গ্রন্থ ‘মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল’ গ্রন্থের প্রণেতা, সাহেবে ইলমে লাদুনি খাজায়ে খাজেগাঁ খাজা আবদুর রহমান চোহরভী (রাঃ)’র ১০৪তম ওরছ মোবারক এবং আরেক মহান ওলী, আওলাদে রাসুল, গাউছে জামান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রাঃ)’র ৩৩তম ওরছে পাক উপলক্ষে সালানা ওরছ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৪ জুন ২০২৫ (শুক্রবার) হাজীগঞ্জ পাইলট সরকারি হাইস্কুল মিলনায়তনে এই আজিমুশ্বান সালানা ওরছ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান ছিলেন এশিয়া খ্যাত সুন্নী দ্বীনি মাদ্রাসা চট্টগ্রাম জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান ফকিহ মুফতিয়ে আজম, আল্লামা কাজী আবদুল ওয়াজেদ (মা. জি. আ.)।

প্রধান আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি আবুল হাসানাত আল-কাদেরী।

চাঁদপুর জেলা গাউছিয়া কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহজামাল তালুকদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিন আল-কাদেরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, জেলা দাওয়াতুল খায়ের সম্পাদক মাওলানা আহম সাইফুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা শাহাদাত হোসেন জাহিদ ও মাওলানা মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

Model Hospital

প্রধান মেহমান মুফতি আবদুল ওয়াজেদ তাঁর আলোচনায় বলেন, এই বাংলাদেশ সুজলা সুফলা হয়েছে আল্লাহর ওলীগণের পদচারণায়। খাজায়ে চোহরভী (রাঃ) যে ত্রিশপারা দুরূদ শরীফ মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল লিখেছেন তা ইলমে লাদুন্নি ছাড়া সম্ভব নয়। আল্লাহর পেয়ারা মাহবুব সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামার এমন কোনো সিফাত, গুণ নাই যা খাজায়ে চোহরভী এই দুরূদ শরীফের গ্রন্থে আনেন নি। বিশ্বে দুরূদ শরীফের ত্রিশপারা বিরল।

দুরূদের খাজানা যেনো মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল। তিনি বলেন, খাজায়ে চোহরভী (রা.) প্রকাশ পেয়েছেন শাহেনশাহে সিরিকোট আওলাদে রাসুল সৈয়দ আহমদ সিরিকোটি (রা.)’র মাধ্যমে। এই মহান ওলীই হচ্ছেন বানীয়ে জামেয়া। আর তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি গাউছে জামান হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.) হচ্ছেন বানীয়ে গাউছিয়া কমিটি। আজকে সারা বাংলাদেশে হুজুর কেবলার প্রতিষ্ঠিত আনজুমানের দ্বারা শত শত সুন্নী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। এর দ্বারা সুন্নীয়তকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং আমরা যারা হক্ব তরীকাপন্থী আছি, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের অনৈক্য করা যাবে না। তাহলে শয়তান আমাদের মাঝে ঢুকে যাবে। তিনি মুসলমানদের ঈমান ও আমল হেফাজতের জন্যে আল্লাহর ওলীগণের কাছে যাওয়া যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা কোরআনের আয়াত দ্বারা বুঝিয়ে দেন।

সবশেষে মিলাদ কিয়াম ও দোয়া মুনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বাদ মাগরিব অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন খতম, মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রাসুল খতম এবং খতমে গাউছিয়ার মধ্য দিয়ে। ত্রিশজন উল্লেখযোগ্য আলেম এসব খতম সম্পন্ন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’