শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ রায়চোঁ বিদ্যালয়ের ছাদ ঢালাইয়ে চরম অনিয়ম: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ৯:০৮ পিএম
হাজীগঞ্জ রায়চোঁ বিদ্যালয়ের ছাদ ঢালাইয়ে চরম অনিয়ম: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ৬১নং রায়চোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার টিচার্স রুম নির্মাণে ছাদ ঢালাইয়ের কাজে চলছে চরম অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, মানা হয়নি সরকারি বিধিমালা, আর প্রকৌশল দপ্তরের অবহেলাও স্পষ্ট।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের পিইডিপি-৪ (প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি) এর আওতায় এ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এস. কাদের। কিন্তু কোনো প্রকার পূর্ব অনুমতি ছাড়াই এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গত ২৬ জুন সকালে তড়িঘড়ি করে ঢালাই কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা এসে দেখতে পান, কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৪-৫ মাস আগে আনা জমাট বাঁধা সিমেন্ট ও নিম্নমানের ভিটি বালু—যা ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিরিনা আক্তার শামীম বলেন, “কোনো অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়নি। হঠাৎ শুনি ঢালাই হচ্ছে। গিয়ে দেখি ভয়ানক অনিয়ম। আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও ইউএনও মহোদয়কে জানাই, তখন তিনি কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।”

Model Hospital

তিনি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো ওয়ার্কশিট পাননি, বরাদ্দ বা কাজের ধরন সম্পর্কেও তাকে কিছু জানানো হয়নি। একাধিকবার উপজেলা সার্ভেয়ার মালবিকা দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সাড়া মেলেনি।

উপজেলা সার্ভেয়ার মালবিকা দেবনাথ নিজেই স্বীকার করেছেন, “ঠিকাদার আমাদের না জানিয়েই কাজ শুরু করেছে। পরে আমি গিয়ে কিছু নতুন সিমেন্ট ও সিলেকশন বালু সরবরাহ করি।” এই বক্তব্য থেকেই দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট। ওয়ার্কশিট না দেওয়া ও পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় মালবিকার দায়িত্ব এড়ানো কঠিন।

অন্যদিকে, ঠিকাদার এম.এস. কাদের এর বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গ, নির্দেশনা অমান্য ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি টাকায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়ার কথা, কিন্তু এখানে চলছে ভবিষ্যৎ ধ্বংসের খেলা। এটা শুধু অনিয়ম নয়, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”

তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ঠিকাদার, সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’