শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ৩ মাসে ৫ শ’ নরমাল ডেলিভারি, কমেছে সিজার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫, ২:০১ পিএম
চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ৩ মাসে ৫ শ’ নরমাল ডেলিভারি, কমেছে সিজার

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে গত তিন মাসে প্রায় ৫ শতাধিক প্রসূতী মায়েদের স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হয়েছে। এতে করে কমেছে সিজারিয়ানের হার। বিগত সময় এবং বর্তমানে যেখানে গর্ভবতী নারীদের বেশির ভাগই সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়ে থাকে। সেখানে গত তিন মাসে ৪ শতাধিকের বেশি গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারির বিষয়টি সত্যি অনেক প্রশংসনীয়। যা সরকারি হাসপাতালের প্রসূতিসেবায় একটি ইতিবাচক দিক নির্দশন করে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন, এই তিন মাসে হাসপাতালে সর্বমোট ৪০৮টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ১৪৩টি, মে মাসে ১৪৫টি এবং জুন মাসে ১২০টি। অন্যদিকে এই সময়ে সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে যথাক্রমে এপ্রিল ও মে মাসে ৪৫টি করে এবং জুন মাসের ৩০ তারিখ সোমবার পর্যন্ত মাত্র ২৫টি সিজারিয়ান ডেলিভারী হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি মাসে হাসপাতালে গড়ে ৭০ শতাংশের বেশি ডেলিভারিই নরমাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, যা দেশের অনেক জেলা হাসপাতালের তুলনায় ব্যতিক্রমী এবং প্রশংসনীয়। সিজারিয়ানের যুগে প্রতি মাসে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ার কারনে শহর এবং বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলের রোগীদের মাঝে হাসপাতালের প্রতি অনেক আস্থা তৈরি হচ্ছে।

চাঁদপুর সদরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আগত অনেক প্রসূতি মা ও তাদের পরিবার এখন আর অপ্রয়োজনীয় সিজার করানোর দিকে ঝুঁকছেন না। তারা চাইছেন স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করাতে। এর পেছনে যেমন রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রভাব, তেমনি রয়েছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নতি ও চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা।

Model Hospital

প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গর্ভাবস্থায় সঠিক সেবা ও পরামর্শ পেলে অধিকাংশ মায়েরাই নিরাপদভাবে নরমাল ডেলিভারির মধ্য দিয়ে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হন। এতে একদিকে যেমন সিজার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে, অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হয়।

চাঁদপুরের মতো একটি জেলার জন্য এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে একটি দৃষ্টান্ত। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ যদি এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করে, তবে ভবিষ্যতে নরমাল ডেলিভারির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।

সাধারণ জনগণের জন্য এটি এক আশাজনক বার্তা, সরকারি হাসপাতালে নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সম্ভব ও সহজসাধ্য।

চাঁদপুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই অগ্রগতি শুধু সংখ্যার হিসেব নয়, এটা চিকিৎসা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং সরকারি সেবার প্রতি বিশ্বাস গঠনের প্রমাণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার যদি জেলা পর্যায়ে আরও প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা এবং সেবা অবকাঠামো জোরদার করে, তবে অপ্রয়োজনীয় সিজারের প্রবণতা সারাদেশে আরও হ্রাস পাবে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে। অনেক মা ও পরিবাররা এখন অপ্রয়োজনীয় সিজার এড়িয়ে নরমাল ডেলিভারিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আমরা চিকিৎসক দলও মা ও নবজাতকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নরমাল ডেলিভারির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখি। পাশাপাশি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ও দক্ষ মিডওয়াইফ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ-পথ্যও রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’