শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল চুরির মূলহোতা দুই ভায়রা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫, ১০:৫৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল চুরির মূলহোতা দুই ভায়রা

ফরিদগঞ্জে পুলিশের অস্ত্র চুরির তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে চুরির সঙ্গে জড়িত মূল হোতা। এর আগে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত দুই দুর্বৃত্তের একজন সুমন।

অপরজন সাইদুল ইসলাম। তারা দু’জনে একে অপরের ভায়রা। রিমান্ডে সুমনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সাইদুলের সম্পৃক্ততা ও বিস্তারিত পরিচয় বেরিয়ে আসে। এ রিপোর্ট লেখার সময় (রবিবার, ৬ জুলাই) পর্যন্ত সাইদুল ইসলাম ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দুই ভায়রা সুমন (৩৫) ও সাইদুল ইসলাম (৩৮) পেশাদার চোর। তারা ঢাকা থেকে পরিকল্পনা করে চাঁদপুর এসে একটি আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত যাপন করে। পরদিন, ফরিদগঞ্জ বাজারে এসে থানা রোড প্রবেশ করে। সুমন সরাসরি এস.আই রাকিবের ভাড়া বাসা চার তলায় প্রবেশ করে।

সাইদুল ইসলাম ভূমি অফিস গেইটের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। সুমন পিস্তল, ১৬ রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন চুরি করে বেরিয়ে আসে ও দ্রুতপদে এলাতা ত্যাগ করে। ঘটনার ১১ দিনের মধ্যে সুমনকে গ্রেফতার করে ঢাকার শাহ্ আলী থানা পুলিশ ও চাঁদপুরের ডিবি পুলিশ। সে জানায় বরগুনার জনৈক রুবেলের কাছে পিস্তল, ১৬ রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিন বিক্রি করা হয়েছে।

Model Hospital

তার দেয়া তথ্য মতে শাহ্ আলী থানা এলাকা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। বরগুনা জেলা থেকে রুবেলকে আটকের পর সেও স্বীকারোক্তি দেয়। এদিকে, সাইদুল ইসলাম ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার (৩রা জুলাই) সুমন ও রুবেলকে রিমান্ডে আনা হয় ফরিদগঞ্জ থানায়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়।

ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে দ্রুত গতিতে অভিযান চালায় ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে। সেখান থেকে যায় ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সুক্তাঘর ইউনিয়নের কেওতা গ্রামে। সাইদুল ওই গ্রামের ফকির বাড়ির মোবাক্ষের আলী ফকিরের ছেলে। রাজাপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৫ জুলাই রাতে সাইদুলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাৎক্ষণিক জানতে চাইলে সাইদুল চুুরির সঙ্গে জুড়িত থাকার দায় স্বীকার করে।

গ্রেপ্তারের পর সাঈদ জানায়, সুমন তার ছোট ভায়রা এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি করে আসছিল। সর্বশেষ গত ৫ মে ফরিদগঞ্জে এসে পুলিশ সদস্যের বাসায় ওই চুরির ঘটনা ঘটায়।

উল্লেখ্য, এস.আই. রাকিব ফরিদগঞ্জ থানার প্রায় এক শ’ ফিট উত্তরে একটি পাকা ভবনের চার তলায় থাকতেন। সুমন সরাসরি ওই বাসার দরজার সামনে যায়। সে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তালা খুলে ফেলে এবং ট্রাংকের ভেতর থেকে অস্ত্র নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বিভাগ ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি বিভাগ মাঠে নেমে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুলিশকে জানায়, চুরি করা রিভলবারটি ২০ হাজার টাকায় রুবেলের কাছে বিক্রি করে। প্রথম কিস্তিতে সুমন ও সাইদুলকে নগদ আট হাজার টাকা দেয়া হয়। ১২ হাজার টাকা বকেয়া থাকে।

অস্ত্র উদ্ধারের পর, ঢাকার শাহ আলী থানায় অস্ত্র আইনে সুমন ও রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত করলে, তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। চুরির ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই চুরির তথ্য জানতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের রিমান্ড আবেদন করে ও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় ।

ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুর, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে জানা গেছে, দুই ভায়রা বহু চুরির সঙ্গে জড়িত। তারা, এর আগে চিহ্নিত হয়নি।

এদিকে, ফরিদগঞ্জ থানায় রিমান্ডে থাকালীন সুমন বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এতে, বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে সুমন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ্ আলম বলেন, এসআই রাকিব উদ্দিন ভূইয়ার বাসা থেকে সরকারি রিভলবার চুরির ঘটনায় দুই ভায়রাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুমন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তারা দুই ভায়রা মিলে চুরি করেছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল। সাঈদকেও রবিবার (৬ জুলাই) আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’