শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শহীদ সিয়াম সর্দারের কবর জিয়ারত করলেন গণঅধিকার পরিষদ নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫, ৮:০৬ পিএম
শহীদ সিয়াম সর্দারের কবর জিয়ারত করলেন গণঅধিকার পরিষদ নেতৃবৃন্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন সিয়াম সর্দার।

চাঁদপুর সদর উপজেলা ৬ নং মৈশাদী ইউনিয়নের সোহাগ সর্দারের ছেলে সিয়াম সর্দারের (ওরফে জিহাদ) ( ১৭) রুহের মাগফিরাত কামনায় দক্ষিন হামান কর্দ্দি জামে মসজিদে ২৮ শে জুলাই সোমবার বাদ আসর চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক কাজী রাসেল, সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান, যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব সামিউল প্রধান, ওমর সালমান, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম শরীফ হোসেন, সদর উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আলামিন সুমন,পৌর যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ রানা নিশান, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মাহাবুব অলিউল্লাহসহ ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মুসল্লিগণ ।

দোয়া শেষে সবাই তার কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সাথে কথা বলেন।

Model Hospital

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ইমরান হোসেন।

সিয়াম সর্দারের বাবা আবেগ আব্রুত কন্ঠে বলেন আমার একমাত্র ছেলে দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

আমি একজন দিনমজুরের কৃষক আমার ছেলে সিয়াম টাইলস মিস্ত্রির কাজ করতেন ২৪ এর ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ১৮ই জুলাই ঢাকায় মিরপুর ১০ বেনারসী মার্কেটের সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় বুলেটের আঘাতে নির্মম ভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আমার ছেলের বাম চোখ দিয়ে বুলেট ঢুকে পিছন দিয়ে বের হয়ে যান, কত না কষ্ট পেয়েছে আমার ছেলেটা। আমরা খবর পেয়েছি ঐদিন রাত পৌনে বারোটার সময় পরদিন শুক্রবার জানাজার শেষে তাকে দাফন করেছি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছি দুঃখ নেই কারণ আমার ছেলের মত আরো শত শত দেশপ্রেমীরা জীবন দিয়েছে এবং দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। আমার ছেলে সহ সকল শহীদদের জন্য আমি দোয়া চাচ্ছি আপনারাও দোয়া করবেন আল্লাহ যেন সবাই বেহেশত নসিব করেন।

সিয়ামের বোন জানায়, সরকার থেকে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি এছাড়াও বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা আমাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। আমরা সরকার, প্রশাসন ও আপনারাসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’