শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১২:২৫ এম
চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি

চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় পীর মহসিন উদ্দিন পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথি এবং চাঁদপুর রোটারি ক্লাব নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)” চাঁদপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান কবির।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানব জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রত্যাশা করি প্রতিটি সামাজিক সংগঠন এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেবে এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে অবদান রাখবে। গাছ লাগানো শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা।”

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর রোটারি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান আব্দুল্লাাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মিলনের সঞ্চালনায় ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি রোটারিয়ান আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী, মোস্তাক আহমেদ খান, মাকসুদুর রহমান, ইলেক্ট প্রেসিডেন্ট রাজিব মজুমদার, ইমেডিয়েট ফাস্ট প্রেসিডেন্ট ডাঃ ইফতে খারুল আলম, জয়েন্ট সেক্রেটারি আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, কামাল হোসেন, জয়েন্ট ট্রেজারার তাপস কুন্ড কানাই, কমিটি চেয়ার আহসান হাবীব, ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস ডিরেক্টর আমিনুল্লাহ শেখসহ সেন্ট্রাল গার্ডেন রোটারেক্ট ক্লাবের সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং সেন্ট্রাল রোটারেক্ট ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের সভাপতি রোটারিয়ান আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে রোটারি ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রায় লক্ষাধিক গাছের চারা রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ করছে এবং চারাগুলো পরিচর্যা এবং যত্নের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় রোটারি ক্লাবগুলো সারা বাংলাদেশে কাজ করছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’