শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এখনও জরাজীর্ণ শাহরাস্তি দৈয়ারা মাদরাসায় টিনের ঘরেই পাঠদান

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৩৭ পিএম
অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এখনও জরাজীর্ণ শাহরাস্তি দৈয়ারা মাদরাসায় টিনের ঘরেই পাঠদান

দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ছয় বছরের মাথায়, ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির দৈয়ারা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “দৈয়ারা দারুছ সুন্নাত মবিনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা”।

শিক্ষানুরাগী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৪৮ বছর পরেও আজও প্রতিষ্ঠানটি পাকা ভবন না পেয়ে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আজও শিক্ষা কার্যক্রম চলছে মাত্র সাতটি জরাজীর্ণ দোচালা টিনের ঘরে। বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। গ্রীষ্মে ভয়াবহ গরমে বর্ষায় শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Model Hospital

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যাচ্ছে। দোচালা টিনের ঘরগুলোর ভেতরে প্রখর রোদে ও গরমে শিক্ষার্থীদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবু নোমান মোঃ আব্দুর রহমান জানান, “শাহরাস্তি উপজেলার মধ্যে এই মাদরাসাটি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের নিকট বহু আবেদন করা হলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০-এর বেশি। কর্মরত আছেন ১১ জন শিক্ষক, অথচ ৯টি শিক্ষক পদের এখনো অনুমোদন মেলেনি। মাদরাসার নামে ১ একর ২২ শতাংশ জমি থাকলেও নেই একটি আধুনিক ভবন। ৪৮ বছরেও পাকা কোনো শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই মানবেতর পরিবেশে পাঠদান ও পাঠগ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবর একটি আধুনিক বহুতল ভবন বরাদ্দ চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। এখনো সেই আবেদন অনুত্তরিত।

দীর্ঘদিন ধরে আলোকিত জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি আজ উন্নয়ন ও দৃষ্টিপাতের বাইরে রয়ে গেছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন- একটি প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন এতটা বঞ্চনার শিকার?

জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন ভবনসহ পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে এর টিকে থাকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’