বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ভুয়া এনজিওর খপ্পরে নিজের সর্বস্ব হারিয়েছেন কয়েক গ্রামের মানুষ।

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
হাজীগঞ্জে ভুয়া এনজিওর খপ্পরে নিজের সর্বস্ব হারিয়েছেন কয়েক গ্রামের মানুষ।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪ নং কালচোঁ ইউনিয়নে ভুয়া এনজিওর মাধ্যমে প্রতারণা করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে রামপুর, সৈয়দপুর, নওয়াহাটা,মাড়ামুড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের দেড় শতাধিক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রতারকরা দেড় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নেয়। প্রতিশ্রুতি ছিল— বিকেলে সবাইকে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে চক্রের সদস্যরা হঠাৎ করেই গা-ঢাকা দেয়।

গ্রামবাসীরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছিল। বলা হয়েছিল—১ লাখ টাকা ঋণ নিতে চাইলে জামানত ১০ হাজার টাকা, ৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে চাইলে জামানত ৫০ হাজার টাকা, ঋণ ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে স্বল্পসুদে পরিশোধ করা যাবে।

১৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় রামপুর দক্ষিণপাড়া মজুমদার বাড়ির মমিন মজুমদারের বিল্ডিংয়ে ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এজন্য স্টেজ, সামিয়ানা থেকে শুরু করে ৫০০ মানুষের খাবার রান্নার ব্যবস্থা পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কৌশলে উধাও হয়ে যায়।

Model Hospital

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারকরা নিজেদের আকিজ কোম্পানির একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান সমাজ কল্যাণ সংস্থা বলে পরিচয় দিত। অফিসে ব্যানারও টানানো হয়েছিল। তবে টাকা জমার বিপরীতে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, “আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমরা কয়েকজন টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু ১১টার পরে দেখি অফিস খালি। তখন আমরা অফিসের সামনে অবস্থান করলে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় কয়েকজন আমাদেরকে লাঠিসোটা দিয়ে আক্রমণ করেন। কয়েক আহত হন। আমরা কর্মকর্তাদের কারো নাম-ঠিকানা আমরা জানি না। পরে স্থানীয় কয়েক এসে অফিসের তালা খোলার পর কয়েকটি খালি রেজিষ্ট্রার বই ও ফাইল পাওয়া যায়।

অফিসের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়া মালিক মমিন মজুমদার জানান-গতকাল তারা আমার বাড়ি ভাড়া নেয়। আজ তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য তারা স্টেজ-সামিয়ানা এনে অফিস সাজায়। কিন্তু দুপুরের আগেই উধাও হয়ে যায়।”

আনন্দ ডেকোরেটরের কর্ণধার আবু সাঈদ বলেন-আমার সঙ্গে ২৬ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল। ৫০০ মানুষের রান্না, স্টেজ ও যাবতীয় সাজসজ্জা করছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে দেখি কেউ নেই, সবাই পালিয়েছে।”

প্রতারিত মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গ্রামীণ মানুষ এভাবে প্রতারণার শিকার না হয়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital