শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে অ্যাম্বুলেন্সে নারী ধর্ষণের অভিযোগে চালক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৫ পিএম
চাঁদপুরে অ্যাম্বুলেন্সে নারী ধর্ষণের অভিযোগে চালক গ্রেপ্তার

চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে (২৪) অ্যাম্বুলেন্সে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে চালক মো. মুরাদ হোসেনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই নারীর ছোট বোনজামাতা সদর মডেল থানায় চালকসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই-তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া।

গ্রেপ্তার চালক মুরাদ চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়া ৯নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তফা বেপারীর ছেলে। আনঞ্জুমান নামীয় অ্যাম্বুলেন্সটি তিনি ভাড়ায় নিয়ে পরিচালনা করতেন। ধর্ষণের শিকার ওই নারী জেলার শাহরাস্তি উপজেলার।

মডেল থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজগাছতলা নামক স্থানে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ওই সড়কে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইবাদুল হক ও সঙ্গীয় ফোর্স টহলরত অবস্থায় ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে থামানো অবস্থায় দেখে সন্দেহে হলে তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

Model Hospital

গ্রেপ্তার চালক ও অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চালক মুরাদ হোসেন ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে পাশের লক্ষ্মীপুর জেলায় যান। সেখান থেকে চাঁদপুরে আসার পথে লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘুরাঘুরি অবস্থায় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারীকে যাত্রীবেশে তার অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে আসে। এরপরেই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে জোরপূর্বক ধষর্ণের ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানান, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন এবং স্বামী পরিত্যক্তা। তার বাবা মার সাথে বাড়িতে থাকেন। মাঝে মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির সকলের অজান্তে বের হয়ে যায়। এরপর বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে পায়নি। আজ শনিবার চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পায় নিখোঁজ নারী থানা হেফাজতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানরত একাধিক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, মুরাদের এ ঘটনাই শুধু নয়, হাসপাতালের কর্মচারি ও সহযোগী অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে প্রায় সময় অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন। চাঁদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা রোগীদের ঢাকা মেডিকেলে না নিয়ে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এটা তার নতুন কাজ নয়, পুরনো অভ্যাস।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, জানতে পেরেছি ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রায় সময় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘুরাঘুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালক তাকে তুলে নিয়ে আসে। এই ঘটনায় তার আত্মীয় থানায় মামলা করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’