শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিকদের সাথে জেলা বিএনপি সভাপতির মতবিনিময়

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:০০ পিএম
চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিকদের সাথে জেলা বিএনপি সভাপতির মতবিনিময়

চাঁদপুর টেলিভিশনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

কেন্দ্রীয় বিএনপি প্রবাসী কল্যান বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন সাংবাদিকদের রক্তচক্ষু দিয়ে কেহ তাকাতে পারবে না। আমার দলের কিংবা আমাদের কোন ভুল থাকলে সরাসরি বলবেন। কোন সংকোচের কিছু নেই। আপনার বিগত দিনে বহু এমপি-মন্ত্রীর সাথে ঘুড়েছেন, বহু উন্নয়ন মূলক কাজ স্ব-চোক্ষে দেখেছেন। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে। আমাদের সহযোগিতা সবসময় থাকবে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ মুনিরা ভবনে চাঁদপুর টেলিভিশনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আরো বলেন, সাংবাদিকরা মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং এর বিষয়ে লেখা-লেখি করেন। আমরা চাই এ দেশটা আমার-আপনার সকলের। আমাদের প্রজন্মকে সুষ্ঠু ও সুন্দর একটা পরিবেশ দিতে চাই। এতে সাংবাদিকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আপনাদের  ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের চাঁদপুরের উন্নয়ন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।আপনাদের পরামর্শ, মতামত আগামীর সুন্দর একটি চাঁদপুর বিনির্মানে আমার কাজে লাগবে।আমরা কাজ করছি সব হয়তো মিডিয়ায় আসে না।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম।

Model Hospital

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রিয়াদ ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, আরটিভির শরীফ চৌধুরী, বাংলাভিশনের রহিম বাদশা, ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার বি এম হান্নান, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধ মির্জা জাকির, এসএ টিভির জি এম শাহীন, চ্যানেল ২৪ এর আল ইমরান শোভন, মাই টিভির মুনাওয়ার কানন, নেক্সেস টিভির লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, নিউজ ২৪ এর খোকন কর্মকার, সময় নিউজের ফারুক আহমদ, মোহনা টিভির রফিকুল ইসলাম বাবু, বৈশাখী টিভির ওয়াদুদ রানা, দীপ্ত টিভির ইব্রাহীম রনি, বিজয় টিভির সোহলে রুশদী, একুশে টিভির নেয়ামত হোসেন, এখন টিভির তালহা জুবায়ের, চ্যানেল আই এর মোরশেদ আলম, ডিবিসির নজরুল ইসলাম আতিক, এনটিভির শরীফুল ইসলাম, এটিএন নিউজের বিল্লাল ঢালী, বাংলা টিভির রহমান রুবেল, আনন্দ টিভির এইচ এম নিজাম ইনডিপেনডেন্ট টিভির মনিরুজ্জামান বাবলু নাগরিক টিভির অমরেশ দত্ত জয়, ৭১ টিভির আলআমিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’