শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ফরিদগঞ্জে মানববন্ধন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৩ পিএম
ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ফরিদগঞ্জে মানববন্ধন
আলোচিত এস আলম গ্রুপ কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের দাবিতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ও ‘বৈষম্যবিরোধী চাকরি প্রত্যাশী পরিষদ’ এর ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ফরিদগঞ্জ পৌর শাখার সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রূপসা উত্তর (১৫নং) ইউনিয়নের সভাপতি নাসরুল্লাহ।
এসময় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, এস আলম গ্রুপ বর্তমান সরকার আমলে ইসলামী ব্যাংকের মতো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, এসব অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। যারা চাকরিতে বহাল থাকতে চান, তাদের পুনরায় বৈধ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করে বিশেষ কোটা ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্যমূলক নিয়োগ বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন—
১. অবৈধ নিয়োগ বাতিল,
২. মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ,
৩. পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা,
৪. ব্যাংকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফরিদগঞ্জ পৌর সভাপতি জয়নাল আবেদিন, পৌর ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি মাসুদ পারভেজ, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি রাসেল গাজী, হাসান মিজি, আব্দুস সাত্তার, রুবেল গাজী, মো. রকিবসহ চাকরি প্রত্যাশী তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চলমান এ আন্দোলনের মাধ্যমে বক্তারা ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’