বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার জায়গা দিয়ে কাউকে চলতে দিবোনা বলেই শত বছরের রাস্তা কাটলেন প্রতিপক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২৭ পিএম
আমার জায়গা দিয়ে কাউকে চলতে দিবোনা বলেই শত বছরের রাস্তা কাটলেন প্রতিপক্ষ

চাঁদপুর সদর উপজেলার মধ্য রঘুনাথপুর আরাজী বালিয়া গ্রামের বাহাদুর খান বাড়ির শত বছরের চলাচলের রাস্তা কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এমন অভিযোগ উঠেছে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মচারী নাছির উদ্দিন রিপন ও তার ছেলে রেজাউলসহ তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এতে রাস্তা চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে অর্ধশত পরিবারের লোকজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে একই গ্রামের নাছির উদ্দিন রিপন ও তার ছেলে রেজাউল দলবল নিয়ে এসে কোদাল দিয়ে রাস্তাটি কুপিয়ে চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলেন। ওই রাস্তাটি দিয়ে বাহাদুর খান বাড়ির প্রায় ৬০টি পরিবার দীর্ঘ শত বছর ধরে চলাচল করে আসছে।

বাহাদুর খান বাড়ির ভুক্তভোগী আলমগীর খান, দুলাল খান, খালেক খান, পিনোরা বেগম, লতুফা বেগম, নাছির ভূঁইয়া, নয়ন ভূঁইয়া, লাইজু বেগম, লাকি বেগম ও শাহিনা বেগমসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, বহু বছর আগে স্থানীয় মৃত লতিফ খান চলাচলের সুবিধার্থে তাদের এই রাস্তার জমি মৌখিকভাবে দান করেছিলেন। সেই থেকেই পরিবারগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে রাস্তা ব্যবহার করে আসছিল।

তারা আরও জানান, ২০০৪ সালে নাছির উদ্দিন রিপন খান ওই এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে রাস্তার পাশের ৪২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর তিনি জমির সীমানায় কয়েকটি নারকেল গাছ রোপণ করেন, যেগুলো বড় হয়ে এখনও বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি দাবি করছেন যে, রাস্তার অংশ তার ক্রয়কৃত জমির মধ্যে পড়েছে।

Model Hospital

এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে দলবল নিয়ে গিয়ে রাস্তার প্রবেশ পথসহ বিভিন্নস্থানে মাটি কেটে ফেলে দেন।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এ এসআই সুমন কুমার দাস

সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি থানায় বসে মীমাংসা করার আশ্বাস দিলে রাস্তা কাটা বন্ধ হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সচিব গোলাম মোস্তফা ইউএনওর নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, শত বছরের পুরনো এই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বহু পরিবার চলাচল করে আসছে। হঠাৎ করে এভাবে রাস্তাটি কেটে দেওয়ায় তারা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাই তারা বিষয়টির সুষ্ঠ বিচার ও সমাধানের জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

এ বিষয়ে নাছির উদ্দিন রিপনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি আমার খরিদের জায়গার আটের জমি কাটতে গিয়েছি। আমিতো আমার জমি দিয়ে কাউকে চলতে দিবোনা। তাদের যদি কোন কাগজ থেকে থাকে, সেটা তারা দেখাক।

তিনি বলেন, সাংবাদিক কেনো, আরো যা কিছু দিয়ে মন চায় তারা যা ইচ্ছে তা করুক। আমি প্রশাসনিক ভাবে বসে মিমাংসা করবো।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।