শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা : অধ্যাপক ডা. হাদিউজ্জামান

শাহরাস্তিতে সেফুদার বাবা আলী আকবরের নামে দাতব্য চিকিৎসালয় উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৫৮ পিএম
শাহরাস্তিতে সেফুদার বাবা আলী আকবরের নামে দাতব্য চিকিৎসালয় উদ্বোধন
সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত প্রবাসী সমাজকর্মী সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার পিতা মরহুম আলহাজ্ব আলী আকবর মজুমদার এর স্মরণে প্রতিষ্ঠিত “আলহাজ্ব আলী আকবর মজুমদার মেমোরিয়াল দাতব্য চিকিৎসালয়” উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চেড়িয়ারা গ্রামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গুণীজন, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত দাতব্য চিকিৎসালয়টি সিফাত উল্লাহ সেফুদা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হাসমতেরনেছা হাসু সাইন্স এন্ড টেকনোলজি কলেজ প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কাটা শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালবা করা  হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের প্রিন্সিপাল মোশারেফ হোসেন মন্টু এবং সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যমকর্মী মোঃ রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম. হাদিউজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্য অধ্যাপক ডা. হাদিউজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি প্রত্যন্ত গ্রামে দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে মানবসেবায় এগিয়ে আসেন, তবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এখানকার রোগীদের জন্য আমি সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করব। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি পরিবার নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের অগ্রগতির প্রতীক।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ আবুল কালাম, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোমান হোসেন আখন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহবুব হাসান বাবলু এবং এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান শেষে সিফাত উল্লাহ সেফুদার বড় ভাই শামসুল হুদা-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রয়াত পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য,প্রবাসী সমাজকর্মী সিফাত উল্লাহ সেফুদা দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করলেও দেশের মানুষের কল্যাণে তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তার এই দাতব্য উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে মানবসেবার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’