শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে সকালে মিলল লাশ! হাজীগঞ্জে শাহ আলমের মৃত্যুঘিরে রহস্য-ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩৫ পিএম
রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে সকালে মিলল লাশ! হাজীগঞ্জে শাহ আলমের মৃত্যুঘিরে রহস্য-ক্ষোভ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্ররা গ্রামে এক তরুণের মৃত্যু ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য। রাতের আঁধারে দুই বন্ধুর ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া শাহ আলম (২৭)-এর লাশ মিলল ভোরের আলো ফুটতেই নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঝুলন্ত অবস্থায়।

দুই মাস কেটে গেলেও মৃত্যুর রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। এটি কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাসে প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। এদিকে নিহতের ভাই মহসীন হোসেন সজিব বাদী হয়ে আশরাফুল (তনু) ও ফারুক নামের দুইজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং বড়কূল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্ররা গ্রামের ইতালি প্রবাসী সেলিম চৌধুরীর নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে শাহ আলমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত শাহ আলম ওই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।

ঘটনার পর পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা নেয় এবং তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই নূরে আলম। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। পুলিশের এই নীরব ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

Model Hospital

নিহতের ভাই মহসীন হোসেন সজিব বলেন, রাতে আমার ভাইকে আশরাফুল ও ফারুক ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আর ফেরেনি। সারারাত খুঁজেছি, পাইনি। রাত চারটার দিকে আশরাফুল ও ফারুককে আমাদের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আমি জিজ্ঞেস করলে তারা কিছুই বলেনি। পরদিন দুপুরে শুনি, আমার ভাইয়ের লাশ কাছের বিল্ডিংয়ে ঝুলছে।”

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই আত্মহত্যা করতে পারে না। আশরাফুল ও ফারুক মিলে তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। তারা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনার পর থেকেই দু’জনই পালিয়ে যায়। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

নিহতের মা নূরজাহান বেগমের অভিযোগ, “রাতে আশরাফুল ও ফারুক আমার ছেলেরে ডেকে নিয়ে গেছে। সকালে শুনি সে নাকি আত্মহত্যা করেছে! আমার ছেলে নামাজ পড়ত, কারও সঙ্গে ঝামেলা করত না। এমন ছেলে আত্মহত্যা করবে এটা বিশ্বাস করা যায় না।”

তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, ঘটনার পর থেকে আশরাফুল কেন এলাকা থেকে পালাল? যদি নির্দোষ হয়, তাহলে পালিয়ে গেল কেন? পুলিশকেও বলেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল ওরফে তনু ও ফারুক চিহ্নিত মাদকসেবী ও ছিটকে চোর। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরাও তার অবস্থান জানে না।
তার মামী বলেন, লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর থেকে আশরাফুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। সে কোথায় আছে, জানি না।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ফারুকের মা জানান, সেদিন ভোর ৪টার সময় আশরাফুল আমার ঘরে এসে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কী হয়েছে জানি না। আমি বিশ্বাস করি আশরাফুলই আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম বলেন, তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের থানায় ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেনি।”

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা হবে।

গ্রামজুড়ে এখন একটাই গুঞ্জনরাতে যাদের ডাকে শাহ আলম বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তারা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে কেন? দুই মাসেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ কেন? তদন্তে বিলম্ব ও নিস্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’