শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ওএমএস ডিলারের মালামাল লুট, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৩ পিএম
চাঁদপুরে ওএমএস ডিলারের মালামাল লুট, থানায় অভিযোগ

চাঁদপুর পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে হামলা ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। রবিবার (৯ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে নতুন বাজারের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ডিলার মোঃ মহিউদ্দিন মোল্লা (৩৫), পিতা আব্দুর রব মোল্লা, চাঁদপুর পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে মহিউদ্দিন মোল্লা উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে তিনি খাদ্য অফিস থেকে ওএমএস ডিলারশিপের অনুমোদন পান। ব্যবসা শুরু করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজনÑ ১. মোঃ ইউসুফ মিয়াজী (৪০), ২. মোঃ হাসেম খাঁ (৩৫), ৩. মোঃ শরীফ (৪৫) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনÑ তাকে এককভাবে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে অভিযোগে বলা হয়, গত তিন মাস ধরে ওই পক্ষ মহিউদ্দিন মোল্লার প্রাপ্য লভ্যাংশ ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেনি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার বিকেলে তিনি বিবাদীদের গোডাউন থেকে নিজের দোকানে ওএমএসের পণ্য নিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে দোকানে হামলা চালিয়ে পণ্য লুট করে নিয়ে যায় এবং তাকে মারধর করে।

Model Hospital

এ সময় মহিউদ্দিনের সহযোগী দীপক মজুমদার (৩৫) বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। অপর সহযোগী নাছির উদ্দিনকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে ভাঙচুর চালায়, পরে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং যাওয়ার সময় মহিউদ্দিন ও তার সহযোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন, “ওএমএস ডিলারশিপ নেওয়ার পর থেকেই তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এখন আমার দোকানের সব মালামাল নিয়ে গেছে। আমি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ইএমও মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আহত দীপক মজুমদার ও নাছির উদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাতে, পিঠে ও নাকে আঘাতজনিত রক্তক্ষরণ হয়েছে।”

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’