শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠছে ১শ টাকার হোটেল, নেই তদারকি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৫ পিএম
চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠছে ১শ টাকার হোটেল, নেই তদারকি

চাঁদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ১শত টাকায় আনলিমিটেড ভাত, আলু, ঝোল আর একপিছ গরুর মাংসের খাবারের হোটেল। নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের হওয়া সত্বেও এসব ভাইরাল হওয়া ভাতের হোটেলে ভিড় করছে উৎসুক কিছু জনতা, দুপুরের পর থেকেই মূলত এসব ভাতের হোটেলে ভিড় বাড়তে থাকে। আগে ১শত টাকার দিয়ে নিজ হাতে ভাত নেওয়ার পর ব্যবসায়ীর ইচ্ছেমত মাংস ঝোল আলু পরিবেশন করে। এখানে ভোক্তাদের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ থাকেনা।

এসব খাবার হোটেলে এখন আবার নতুন পদ্ধতিতে আনলিমিটেড আলু বদলে আলু ডাউলের মত করে মাংসের সাথে মিস করে রান্না করেন, খাবারের সময় আলুর তখন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। অনিয়ম আর নিজেদের খামখেয়ালির মত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হয় এসব খাবারের হোটেলের খাবার।

ভোক্তা অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্সবিহীন ভাবে গড়ে উঠেছে এসব খাবারের হোটেল, দেশে ভাইরাল মিজান সর্বপ্রথম ১শত টাকায় আনলিমিটেড খাবারের ব্যবস্থা চালু করেন, তারপর তাকে অনুসরণ করে চাঁদপুরে একের পর এক ঘরে উঠছে ১শত টাকার আনলিমিটেড খাবারের ভাতের হোটেল।

বাহারি বিজ্ঞাপন আর মাইকিং করে ১শত টাকায় আনলিমিটেড খাবারের জলকানি থাকলেও মূলত খেতে গেলে এর আসল রহস্য বোঝা যায়, নিম্নমানের খাবারের মান, অস্বাস্থ্যকর ও অরোচিকর এসব খাবারের হোটেলে কিছু ইউটিউব ব্যবসায়ী, ব্লগার, ফেসবুক পেইজের স্বত্বাধিকারী গিয়ে তাদের পেইজের ভিউ বাড়ানোর জন্য কিছু মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোক্তাদের আকর্ষণ বাড়ায়। যার কারনে ভোক্তাগণ চরমভাবে প্রতারিত হয়ে আসছেন, এসব খাবার হোটেলগুলোতে দ্রুত ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনা করা না হলে দূর দুরন্ত থেকে ছুটে আসা উৎসক ভোক্তাগণ প্রতারণার শিকার দিন দিন বাড়তে থাকবে।

Model Hospital

চাঁদপুরের বড় বড় রেস্তোরাঁর মালিকগণ ভোক্তা সাধারণের জন্য সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করার পরও বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা গুনতে হয় তাদের। আর এসব খোলামেলা পরিবেশে খাবার হোটেল গুলো কতটুকু স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও পরিবেশন করা হয়, এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ দিকে এভাবে আনাচে-কানাচে খাবার হোটেল গড়ে উঠলে একদিকে সরকার হারাবে রাজস্ব, অন্যদিকে ভোক্তাগণ হবে প্রতারিত।

সারাদিনের পরিশ্রম শেষে দুপুরে যখন খাবার খেতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সে খাবার যদি সুস্বাদু না হয় অরুচি পূর্ণ হয়, তাহলে বাহারি বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোক্তাদের সাথে চরম ভাবে প্রতারণা করা হয় বলে এসব খেতে যাওয়া ভাতের হোটেলের ভেক্তাগণ জানিয়েছেন।

এভাবে একের পর এক ১শত টাকায় আনলিমিটেড খাবারের হোটেল গড়ে উঠলে সরকারের বিভিন্ন ট্যাক্স দিয়ে গড়ে ওঠা বড় বড় হোটেল রেস্তোরাঁর মালিকরা হোটেল ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর—দুটি বিষয় বজায় রেখেই খাওয়াকে উপভোগ্য করে তোলা না হলে সে খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে ভোক্তাগন জানান, জনপ্রিয়তা তখনি পাবে যখন ভেক্তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত হবে। সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমের আকর্ষণ না বাড়িয়ে খাবারের গুণগত মানের দিকে নজর দেওয়ার জন্য এসব গড়ে ওঠা খাবার হোটেল গুলোর মালিকদেরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’