শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জের নাটেহরায় প্রভাবশালীর খপ্পরে নিঃস্ব একটি পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৮ পিএম
হাজীগঞ্জের নাটেহরায় প্রভাবশালীর খপ্পরে নিঃস্ব একটি পরিবার
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৭নং পশ্চিম বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের সিদ্ধার বাড়ীতে নিজস্ব জমিনের উপর বাড়ী করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের দেয়া ১৪৫ ধারার গ্যাড়াকলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে সুবল চন্দ্র দাসের পরিবার। শীত আর কুয়াশায় ওই পরিবারের নারী আর শিশুরা এখন খোলা আকাশের নিচে পরিবারের সাথে বসবাস করছে।
নথিপত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্যে জানা যায়, সিদ্ধার বাড়ীর সুবল দাস তার নিজস্ব জমিনের উপর ৭৮০ খতিয়ানে ৭ শতাংশ জমিনের উপর পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন করে ঘর করছে। প্রতিবেশী উদ্দপ চন্দ্র দাস চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ তুলে ১৪৫ ধারা জারি করার বন্ধোবস্ত করান।
সরেজমিনে ওই বাড়ীতে গেলে বাড়ীর গ্রামের শালিসদার বীরমুক্তিযোদ্ধা সুনীল চন্দ্র দাস, শুধাংসু দাস ও মানিক দাস জানান যে, গত ৬০-৭০ বছর পূর্বে তাদের দাদুর আমল থেকে এখানে বসবাস করছে। যেই জাগার উপর ঘর করা হচ্ছে এখানে উদ্দীপন চন্দ্র দাসের কোন জায়গা নেই। সে নিজেই আমিন নিয়ে গ্রামের শালিশদারসহ বাড়ী মেপে তার জায়গা বুঝে নিয়েছে। এখন আবার সে নিজেই দাবী করছে জায়গা পাবে! আমরা বাড়ির সবাই বসে সমাধান করার চেষ্টা করলেও সে বা তার পরিবারের কেউই এখানে আসেন নাই। এভাবে সে মানুষকে হয়রানি করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
এলাকার ইউপি সদস্য মুসলিম গাজীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এই বাড়ি মাপার সময় আমি নিজেও ছিলাম। আমার দেখা মতে সুবল দাসের বিল্ডিং মাঝখানে তিন ফুট হাটার জায়গা অতিক্রম করে উদ্ধপ দাসে জায়গায় যাইনি। আমার কাছে সুবল দাসের ছেলে সমাধানের জন্য গেলে আমি নিজে সমাধান করার চেষ্ঠা করলেও আমার কথা না শুনে উদ্ধপ দাসের স্ত্রী রাসমনি দাস ঝিনু সোজা থানা অভিযোগ ও পরে মাললায় চলে যান।
জমিনের মালিক সুবল দাস জানান, আমার ৩ ছেলে এর মধ্যে এক ছেলে প্রতিবন্ধী। আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে উদ্দীপন চন্দ্র দাস, তার স্ত্রী রাস মনি দাস ঝিনু মিথ্যা মামলা দায়ের করছে ও হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
সুবল দাসের ছোট ছেলে মিঠুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি বিল্ডিং এর কাজ করার সময় উদ্ধপ দাসের স্ত্রী রাস মনি দাসকে বলি আমরা ঘর করছি পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে একটা আবেদন করে ড্রফ তারটা বারিয়ে নিয়েন। সে রেগে গিয়ে গরম হয়ে যায় এবং এরই জের ধরে ও মিথ্যা মাললা দায়ের করেন। আমি উদ্ধপ দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি জানুয়ারী-২৬ইং বাড়িতে আসবো তখন এটার মিমাংসা হবে। এখন কোন ধরনের মিমাংসা হবে না।
এছাড়াও বাড়ির শালিশদার সুনীল দাস, শুদাংশু দাস, ইউপি সদস্য মুসলীম গাজী, আষিশ দাস, দেবরাজ দাস ও তাদের নিকট আত্বীয় ডা. মানিক লাল মজুমদার ও দ্বিপক দাস সহ বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে দুই পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে বসে সমাধানে আসার চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু তিনি কোন ভাবেই বসবে না বলে জানিয়ে দেন এবং এটাও বলেন তুই পারলে কিছু করে দেখা।
আরো জানা যায়, ওনাদের পুরোহিত বাবুল চক্রবর্তী মামলায় না গিয়ে বসে মিমাংসা করার আশ্বাস দিলেও তিনি মামলা করবেই বলে জানিয়ে দেন।
তিনি আরো বলেন, এলাকায় যারা শালিশ দরবার করে তাদেরকে জানিয়েছি। কিন্তু উদ্ধপ ও তার স্ত্রী রাস মনি কারো কথাই মানেনা।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ উদ্দীপন চন্দ্র দাসের স্ত্রী রাস মনি দাস ঝিনু বলেন, পথের উপর ঘর করছে তাই মামলা করেছি। বাড়ীর সবাইতো আপনাদের বিপক্ষে কেউ আপনাদের পক্ষে কোন কথা বলছেনা।
সবার দাবী আপনারা মিথ্যা অভিযোগ করছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন জবাব দেননি। তবে তার স্বামী উদ্দীপন মুঠোফোনে বলেন, যাই করেন, আমি মামলায় বুঝবো।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার এসআই জয়নাল আবেদীন জানা, আদালত আমাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে, আমি প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’