শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর রুকন সমাবেশ

জনগনের অধিকার নিশ্চিত করতে দাঁড়ীপাল্লার বিজয় অপরিহার্য : রুকন সমাবেশে নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৪৫ পিএম
জনগনের অধিকার নিশ্চিত করতে দাঁড়ীপাল্লার বিজয় অপরিহার্য : রুকন সমাবেশে নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর শহর শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার ভোট গ্রহণ উপলক্ষে রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ২০নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ প্রধান ক্যাম্পাসের হল রুমে চাঁদপুর শহর সদর ও হাইমচর উপজেলা জামায়াতের নারী ও পুরুষ রুকন ভাই বোনদের ভোট গ্রহণ হয়।

সম্মেলনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে ভোট গ্রহণ করেন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরার সদস্য ও কুমিল্লা অঞ্চল টিমের সদস্য নজরুল ইসলাম খাদেম।

তিনি বলেন, জনগনের সকল অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য দাঁড়ীপাল্লা প্রতীকের বিজয় অপরিহার্য। এদেশের জনগন অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে অবাধ নিরপেক্ষ ভয়হীন পরিবেশে  জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য।  শান্তিপূর্ন  অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের জন্য নভেম্বরে গণভোট অনুস্ঠানে বিকল্প নেই।  যেহেতু সকলদল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং জুলাই সনদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে সেহেতু নভেম্বরে গণভোট  অনুস্ঠানে কোন দলের বাধা থাকতে পারে না।

Model Hospital

ভোট গ্রহণের পর রুকন সম্মেলন বক্তব্য রাখেন জেলার নায়েবে আমীর এডভোকেট মাসুদুল ইসলামীর বুলবুল, জেলা সেক্রেটারি সদর-হাইমচর আসনের এমপি পদপ্রার্থী এডভোকেট শাহজাহান মিয়া।

শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল মোহাম্মদ হোসাইন, অধ্যাপক রুহুল আমিন, শাহ আলম, ইব্রাহীম খলিল।

তিনি বলেন, সমাজের কল্যাণমূলক কাজে রুকনদের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।ইসলামী আন্দোলনের রুকনগণ সমাজ পরিবর্তনের অগ্রণী শক্তি। তাদের আদর্শ জীবন, ত্যাগ ও নিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তারা বলেন, ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—এ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রুকনদের সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করতে হবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারী শেখ বেলায়েত হোসেন, সহকারী সেক্রেটারী সাইফুল ইসলাম সবুজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুর জেলার সকল রুকন ভাই বোনদের ভোট গ্রহণের পর গননা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’