শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

তরপুরচন্ডীতে গৃহহীন বিধবা হালিমাকে ঘর উপহার দিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৮ পিএম
তরপুরচন্ডীতে গৃহহীন বিধবা হালিমাকে ঘর উপহার দিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ 
চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে গৃহহীন বিধবা হালিমা বেগমকে ঘর উপহার দিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
গতকাল (২৩ নভেম্বর) রোববার বিকেলে তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের আয়োজনে ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে গৃহহীন বিধবা হালিমা বেগমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর করা হয়।
বসতঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
এসময় তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজনীতি করে মানবতার জন্য। আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে যেকোনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেই সমাজে আর অসহায় এবং দারিদ্রতা থাকবেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন, উন্নত রাষ্ট্রে কোন নাগরিক গৃহহীন অথবা ভূমিহীন থাকতে পারে।
এতদিন এমপি মন্ত্রীদের মুখে আমরা শুধু উন্নয়নের বুলি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার উল্টো। তাই প্রকৃত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ ও সৎ ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা। ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটা নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করবে। ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দারিদ্রতা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হবে। ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিই হচ্ছে বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতি করি। আমরা শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাদের বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ভেবেচিন্তে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে ভোট দিক। দুর্নীতিবাজ আর চাঁদাবাজদের কে সমাজ থেকে না বলতে হবে। তাহলেই আমরা দারিদ্রতা দূর করে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ সরদার বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড গাজী বাড়ির মৃত জামাল গাজীর স্ত্রী বিধবা হালিমা বেগম দীর্ঘদিন যাবত একটি জরাজীর্ণ ঘরে ছেলে সন্তানদের নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে।
বিষয়টি যখন আমাদের নজরে আসে, তখন আমরা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে উনার জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেই। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের হাতপাখা প্রতিকের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভাইয়ের দিক নির্দেশনায় হালিমা বেগমের পরিবারের জন্য একটি পরিপূর্ণ বসত ঘর নির্মাণ করি।
ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার ও যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার পর আজকে আমরা হালিমা বেগমের হাতে ঘরটি হস্তান্তর করতে পেরেছি। তিনি অত্যন্ত খুশি হয়ে আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। আগামী দিনেও আমরা এজাতীয় মানবিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে চাই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের সাবেক জেলা অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ বেলাল, জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ডিএম ফয়সাল, জেলা যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ নেয়ামত উল্লাহ ফরিদ, সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফরহাদ হোসাইন,
জেলা ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কেএম মাসুদুর রহমান, সদর উপজেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নাসিরুল্লাহ বাহাদুর, তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ সরদার, সেক্রেটারী মাওলানা জহিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব বন্দুকশী, ইউনিয়ন যুব আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ চোকদার সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’