শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অগ্নি দুর্ঘটনা ও ভূমিকম্প মোকাবিলায় মহড়া, স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৪১ পিএম
শাহরাস্তিতে অগ্নি দুর্ঘটনা ও ভূমিকম্প মোকাবিলায় মহড়া, স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

শাহরাস্তি উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট টিমের সার্বিক উদ্যোগে এবং শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হলো ‘অগ্নি দুর্ঘটনা ও ভূমিকম্পে করণীয়’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ ও মহড়া। অংশ নেন উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। প্রাণবন্ত এই আয়োজনটি রূপ নেয় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনে।

প্রশিক্ষণে স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়া প্রদান, উদ্ধার ও নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা দেন ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষকরা। অগ্নি ছড়ানো, উদ্ধার প্রক্রিয়া, আহতকে বহন, আগুন নিয়ন্ত্রণ–সব ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন। তিনি বলেন, “দুর্যোগ মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও মানবিক সাড়া সবচেয়ে জরুরি। এই ধরনের প্রশিক্ষণ তরুণদের আরও দক্ষ ও দায়িত্বশীল করে তোলে।”

অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা, সমাজসেবা অফিসার আবু ইসহাক, সাব-ইন্সপেক্টর আল আমিন, শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন লিডার আবু হাসান খান।

Model Hospital

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারফাইটাররা উপস্থিত ছিলেন।

যুব রেড ক্রিসেন্ট টিমের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন দলনেতা নাবিদ ইশতিয়াক, উপদলনেতা আবদুল্লা নাভিদ, এবং কার্যনির্বাহী সদস্য তহিদুল ইসলাম, মারুফ মজুমদার, সাকিবুল ইসলাম, রাকিব হোসেন। উপস্থিত ছিলেন যুব সদস্য জাহেদ হোসেন, আফরিন, কামরুজ্জামান, নুর মোহাম্মদসহ স্কুল–কলেজ টিমের সদস্যরা।

আয়োজকেরা জানান, এই প্রশিক্ষণ শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয় মানবিক দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবা ও সংকট মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “বাস্তব মহড়ায় অংশ নিয়ে মনে হয়েছে দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রশিক্ষণের পুরো সময়জুড়ে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ, শৃঙ্খলা ও মনোযোগ অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’