শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪১ পিএম
ফরিদগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ফরিদগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ বিল্লাল হোসাইন মিয়াজির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত খাজুরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদগঞ্জের ৬নং গুপ্টি ইউনিয়ন থেকে অসংখ্য রোগী এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ করেন।

মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মাওলানা মোঃ বিল্লাল হোসাইন মিয়াজি বলেন, ফরিদগঞ্জের মানুষের কষ্ট আমি খুব কাছ থেকে দেখি। স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার সামান্য চিকিৎসাও নিতে পারে না। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমার এই উদ্যোগ। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সেবায় এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের ভালোবাসা আমার শক্তি। কেউ যেন চিকিৎসা বঞ্চিত না হয় এটাই আমার লক্ষ্য।

এ সময় উপস্থিত ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুস হেলাল,১৪ নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়াসহ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

Model Hospital

ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা রোকেয়া বেগম বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে দাতের ব্যথায় ভুগছি। হাসপাতালে যেতে অনেক খরচ, তাই আর যাওয়া হয় না। আজ এখানে ফ্রি চেকআপ করালাম, ওষুধও পেলাম। আল্লাহ এই আয়োজনকারীদের ভালো করুন।

আরেক রোগী রশিদুল ইসলাম বলেন বাড়ি থেকে এত কাছে ফ্রি ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পাইনি কোনোদিন। প্রেসার ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করালাম। ডাক্তাররা খুব যত্ন নিয়ে দেখেছেন। ক্যাম্পে উপস্থিত আরও অনেকেই জানান, এ ধরনের চিকিৎসা উদ্যোগ নেওয়ায় তারা বড় উপকার পেয়েছেন।

মেডিকেল ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক বলেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ নানা রোগে ভোগেন, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা পান না। আজকে প্রায় সব রোগীকেই আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দিতে পেরেছি। এ ধরনের সেবা কার্যক্রম মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াবে।

আরেক চিকিৎসক বলেন মানুষের ভিড় দেখে বোঝা গেছে, তারা কতটা সেবাবঞ্চিত। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরও হলে সাধারণ মানুষ আরও স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আয়োজকরা জানান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সকাল থেকেই স্থানীয় মানুষজন ভিড় করেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে সেবা গ্রহণ করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’