শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমীর বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৫ পিএম
চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমীর বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত
চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমীর বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমির পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন গাজী। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আসমা খানমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল বাসার শেখ।‌

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক হাফেজ মোঃ কবির খলিফা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন ও নাজমুল হোসাইনে পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সুমন চন্দ্র শীল, সিনিয়র শিক্ষক রাবেয়া আক্তার। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন রাসেল।
ফলাফল প্রকাশ করে প্রত্যেক শ্রেণীর ৩জন করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও গত এক বছরে বিদ্যালয়ের ক্লাসে সবোর্চ্চ উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিশেষ ভাবে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিশুদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—এই তিনটির সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমী দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি শিষ্টাচার, মানবিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, মায়েরাই সন্তানের প্রথম শিক্ষক। তাই মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। সন্তানের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠনে মায়েদের ভূমিকা অপরিসীম। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। সেই নেতৃত্ব যেন হয় মানবিক, আলোকিত ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ।

Model Hospital

সবশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আসমা খানম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমেনা বেগম, শাহানারা আলম, শিখা আক্তার, রেশমীনা আক্তার, জাকিয়া ইসলাম, রোমান হোসেন, মরিয়ম আক্তার প্রেমা, ফারহা আক্তার দিবা, শারমিন আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, আফরিন আক্তা, ইতি রানী দেবনাথ, নিশাদ নাহিদ, স্মৃতি আক্তারসহ সকল শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’