শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-৫ আসনে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র দাখিল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৫৮ পিএম
চাঁদপুর-৫ আসনে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র দাখিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রধানিয়া ।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি । তবে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় নির্বাচন অফিস চত্বরে তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো সমর্থক বা দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন প্রধানিয়া জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সমর্থিত একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত তারিখে তিনি সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সকল বিধি-বিধান ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন।

মনোনয়নপত্র জমা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি দ্রুত নির্বাচন অফিস ত্যাগ করেন, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

Model Hospital

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তিনি শুরুতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর পরপরই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জাকির হোসেন প্রধানিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। (ফাইল ছবি)

এদিকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি দাবি করে আসছেন যে, তিনি আওয়ামী লীগের সকল দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে সাংবাদিকরা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন, যা তাঁর দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই আসনে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের কারণে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা, কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’