শাহমাহমুদপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজায় দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের অংশগ্রহণ।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর ইউনিয়নের কুমারডুগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গায়েবানা জানাজার নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
গায়েবানা জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, সিনিয়র সহ সভাপতি নাহিদ খান, সহ সভাপতি মোশাররফ কারী, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন প্রমূখ।
এসময় নেতাকর্মীরা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। জানাজার অর্থ হচ্ছে দোয়া। আমরা সকলে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মন ভরে দোয়া করবো। আল্লাহ তায়ালা যেন ওনাকে জান্নাতবাসী করেন।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত গায়েবানা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মজিবুর রহমান মাষ্টার, দেলোয়ার হোসেন দুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল দেওয়ান, বিল্লাল পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাদির কাজী, প্রচার সম্পাদক মাসুদ বেপারী, সদস্য আবুল বাশার বাছির, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামাল হাওলাদার, আরিফ কাজী, মাহাবুব বেপারী, কবির মোল্লা, আবুল কালাম পাটওয়ারী, রফিকুল ইসলাম রফু হজি, জাহাঙ্গীর আলম খান, আব্দুল আজিজ, মহসিন তপদার, জাহাঙ্গীর হাজী, আব্দুস ছাত্তার, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান খান, উপজেলা যুবদল নেতা রুমন হাজী, ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি জহির বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব গাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন কুসুম, ওয়াসিম হাজী, অলিউল্লাহ গাজী, কাসিম গাজী, শাহ মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিব কারী, সহ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ গাজী, দপ্তর সম্পাদক মানিক পাটওয়ারী, ইউপি সদস্য ইব্রাহিম তালুকদার, যুবদল নেতা জাফর গাজী।
এছাড়াও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গাজী নূর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মনির মোল্লা, সদস্য সচিব শাকিল পাটওয়ারী, যুগ্ম আহবায়ক নূর মোহাম্মদ, রাশেদ নিজাম রাজু, ইব্রাহিম খান মুন্না, জুলহাস পাটওয়ারী, সদস্য পারভেজ হাজী, সুজন কাজী, আনাস গাজী, মাহাফুজ হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন পাটওয়ারী নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ছাত্রদল নেতা সম্পাদক রায়হান খান, রিংকু কাজী, হাবিব সর্দার, সোহাগ গাজী, সাজ্জাদ খান, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি সোহাগ খান, ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি আলমগীর খান, ইউনিয়ন মৎসজীবী দলের সভাপতি আলমগীর গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ গাজী সহ বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উক্ত জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
শাহমাহমুদপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজায় দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের অংশগ্রহণ।
গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন কুমারডুগী খান বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মোঃ ইসমাইল হোসেন। জানাজার নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এদিকে, এদিন বিকেল ৩টায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাযায় লাখো মানুষের ঢল নামে।
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।
স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।
তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।
শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’
তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।
তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।
রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’
তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।
রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’