শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া মাহফিল

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩১ পিএম
শাহরাস্তিতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া মাহফিল
শাহরাস্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) পৌরসভার কালিয়াপাড়া দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ছিলেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি–হাজীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রতীক। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগ আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের পথ দেখাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক সাহসী কণ্ঠস্বর। তাঁর রাজনৈতিক জীবন আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম পাটোয়ারী লিটন বলেন, এই নেত্রীর আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সংগঠিত ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাসুদ শিকদার। মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিঃ এবিএম পলাশ,সাধারন সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজি,যুবদলের নেতা আবুল কাশেম আকাশ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শফিকুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের দলীয় কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন ।
উল্লেখ্য, দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’