শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইনজীবীদের মিলনমেলায় কণ্ঠশিল্পী তামান্না হকের গানে মাতলো চাঁদপুরবাসী

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম
আইনজীবীদের মিলনমেলায় কণ্ঠশিল্পী তামান্না হকের গানে মাতলো চাঁদপুরবাসী

চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ফ্যামিলি ডে, পিঠা উৎসব, আইন পেশায় ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় প্লেব্যাক ও ফোক কণ্ঠশিল্পী তামান্না হক।

জনপ্রিয় প্লেব্যাক ও ফোক কণ্ঠশিল্পী তামান্না হকের সুরেলা কণ্ঠে মুখর হয়ে উঠেছিল চাঁদপুর। চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন তিনি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ফ্যামিলি ডে, পিঠা উৎসব, আইন পেশায় ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। তামান্না হক তাঁর পরিবেশনায় তুলে ধরেন একাধিক জনপ্রিয় ও শ্রোতাপ্রিয় গান। তাঁর কণ্ঠের আবেশে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন আবহ। উপস্থিত অতিথি, আইনজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গানের তালে তালে উপভোগ করেন অনুষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তামান্না হক বলেন, “এতো সুন্দর একটি আয়োজনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ। চাঁদপুরের দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। সকল চাঁদপুরবাসীর প্রতি রইল আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।”

Model Hospital

সার্বিকভাবে বলা যায়, তামান্না হকের প্রাণবন্ত পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তোলে। সংগীত, মিলনমেলা ও উৎসবের আবহে দিনটি আইনজীবীদের জন্য হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও উপভোগ্য।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’