শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রক্তদানে অবদানের স্বীকৃতিতে সম্মাননা স্মারক প্রদান

শাহরাস্তিতে ব্লাড ডোনার গ্রুপ ডাকাতিয়ার দক্ষিণ পাড়ের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
শাহরাস্তিতে ব্লাড ডোনার গ্রুপ ডাকাতিয়ার দক্ষিণ পাড়ের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ব্লাড ডোনার গ্রুপ ডাকাতিয়ার দক্ষিণ পাড়ের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রক্তদাতা, স্বেচ্ছাসেবী এবং সামাজিক কার্যক্রমে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় উৎসবমুখর এই আয়োজনে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোঃ রাফিউ হাসান হামজা, সমাজসেবক আব্দুল মান্নান (সাবেক সচিব), আলী হায়দার মজুমদার, নুরুল আজম সোহাগ, শিক্ষক আবু তাহের বাহার, নিয়াজুর রহমান (পরিচালক, ব্যাংক এশিয়া, শোরসাক বাজার), মাহবুব আলম (পরিচালক, মেগা মার্ট বিডি), শাহিদুর রহমান (স্বত্বাধিকারী, রহমান ফার্মেসি), সাফায়েত হোসেন (চৌধুরী ফার্মেসি) এবং স্থানীয় অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রক্তদানে বিশেষ অবদানের জন্য মায়াজ হোসেন অংকুর (রক্তদান সংস্থা), রিজন পাটোয়ারি (৩৫ বার রক্তদাতা, রেড রিলেশন), হাফেজ মোঃ রাজু আহম্মেদ (AB- রক্তদাতা), ওমর ফারুক খান শাহীন (পরিচালক, শাহীন এন্টারপ্রাইজ) সহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্টাতা পরিচালক মোঃ রায়হান উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক শাহজালাল মানিক। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ রাজু আহম্মেদ। পরে অতিথিরা কেক কাটা ও সম্মাননা স্মারক প্রদানের অংশ নেন।
অতিথিরা বলেন, “ব্লাড ডোনার গ্রুপ ডাকাতিয়ার দক্ষিণ পাড় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিয়মিত রক্তদাতা ও নতুন স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত হওয়ার ফলে এলাকায় রক্ত সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”
রক্ত সংগ্রহ, হাসপাতাল সমন্বয়, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের দীর্ঘদিনের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে।
শেষে স্বেচ্ছাসেবীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলোচনার মাধ্যমে মিলনমেলা সম্পন্ন হয়।
আয়োজনকে সফল করতে সহযোগিতা করে শাহরাস্তি স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন, শোরসাক আঞ্চলিক শাখা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’