শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায়

দেশের শীর্ষ আলেমদের তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে : ফরিদগঞ্জে মিয়া গোলাম পরওয়ার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ পিএম
দেশের শীর্ষ আলেমদের তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে : ফরিদগঞ্জে মিয়া গোলাম পরওয়ার

কচুয়া সরকারী ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১১দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অতীতে ক্ষমতায় আসা তিনটি দলই রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব পালনে লজ্জাজনক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দুর্নীতি, দমন–পীড়ন ও অবিচারের দায়ে এই তিন দলের কোনোটি আজ মুক্ত নয়। প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে এদেরকে না বলতে হবে।
শনিবার(৩১ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবিতে জুলাই মাসে মানুষ রাজপথে নেমেছিল।
একটি মানবিক, সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে মানুষ জীবন দিয়েছে। সেই পরিবর্তন খুনি, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের দ্বারা আসতে পারে না। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে সেই পরিবর্তন আনতে চাই, ইনশাআল্লাহ।
জনসভায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সৎ মানুষদের রাজনৈতিক বিদ্বেষে বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। দেশের শীর্ষ আলেমদের তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রাণনাশ করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জুলুমের জবাব দিতে হবে।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল হোসেন ও মো. হারুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের শূরা সদস্য ফয়সাল আহমেদ, জামায়াতের ব্যবসায়ী সংগঠনের জেলা সভাপতি শাহ আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ও ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস ও ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য আব্দুল মান্নান খান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. ইউনুছ হেলাল, সাবেক আমীর হাবিবুর রহমান খান, হাজীগঞ্জ পৌরসভা জামায়াতের আমীর আবুল হাসনাত, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা জামায়াতের আমীর মিজানুর রহমান ও সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- এনসিপির চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক মাহবুব আলম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক দেওয়ান শরীফুল ইসলাম, ছাত্র শিবিরের চাঁদপুর জেলা সভাপতি ইব্রাহিম খলিল ও সেক্রেটারি মো. হাসিবুল হাসান, কারানির্যাতিত জুলাই যোদ্ধা ফাইয়াজ।
বক্তারা আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর চাঁদা না পেয়ে একটি গোষ্ঠী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, পাথর নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করেছে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা মানুষ হত্যা করতে পারে, তাদের হাতে জনগণের জান-মাল নিরাপদ নয়। জামায়াতের নির্বাচনী গণসংযোগে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছেন এবং নারীকর্মীকে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এসব জুলুমের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, ফরিদগঞ্জে একটি সৎ ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে ফরিদগঞ্জে কারিগরি কলেজ, স্টেডিয়াম, মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, ডাকাতিয়া নদীর সংস্কারসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
জনসভা শেষে নেতাকর্মীরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’