শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায় : সুমন ভূঁঞা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায় : সুমন ভূঁঞা

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে ধানের শীর্ষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সুমন আহমেদ ভূঁঞা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী করতে ১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শাহজাহান গাজী বাড়িতে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সুমন আহমেদ ভূঁঞা।
এসময় তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের কিছু সংখ্যক মানুষ আছে আপনাদের বাড়ি বাড়ি এসে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। তারা ইতোমধ্যে বলতে শুরু করেছে জান্নাতের টিকিট দেবে। তাদের এই বিভ্রান্তিমূলক কথা থেকে আপনারা সবাই সাবধানে থাকবেন, বিরত থাকবেন। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলেই নাকি জান্নাতের টিকিট পাওয়া যাবে। যারা এরকম আশ্বাস দিচ্ছে তাদের কাছ থেকে বিরত থাকবেন। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা ইসলাম ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে এই দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। সবাই জামায়াতে ইসলাম দল থেকে সতর্ক থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, আপনারা সবাই ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে মানিক ভাইকে জয়যুক্ত করবেন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে মানিক ভাইকে জয়যুক্ত করলে এই ১০নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন হবে। এলাকাবাসী তার সুফল ভোগ করবে।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৈয়ব খান, সহ-দপ্তর সম্পাদক সুমন খান, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ খান সিন্টু, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ বেপারী, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বেপারী, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক খলিল ঢালী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম মিয়াজী, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন শেখ, আহ্বায়ক সদস্য শাকিল মিজি, ইউনিয়ন তাঁতি দলের আহ্বায়ক সবুজ ভূঁঞা, ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক কামাল ভূঁইয়া, ৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাসেল ছৈয়াল, ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শাহাদাত খান, ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সোবহান, ৪নং স্বেচ্ছাসেবক দলের রুবেল, মামুন, ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন মৃধা, যুবদল নেতা হানিফা, ইকবাল, রাসেল, রিপন পাটোয়ারীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়েদ হাসান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’