শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাপক উপস্থিতিতে রামপুরের ৪নং ওয়ার্ডে বিএনপির উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ এম
ব্যাপক উপস্থিতিতে রামপুরের ৪নং ওয়ার্ডে বিএনপির উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত
চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড উত্তর বড় সুন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত উঠান বৈঠকে কয়েক বাড়ির শত শত পুরুষ ও মহিলা ভোটাররা এসে জড়ো হন।
উঠান বৈঠকে উক্ত এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি ব্যাপক গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষ প্রতীককে জয়যুক্ত করার জন্য। ধানের শীষের জন্য সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে। ধানের শীষের জয়যুক্ত হলে এই রামপুর ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন রোধ সহ রাস্তা-ঘাট হয়ে যাবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে উন্নয়নমূলক অনেক কিছু দৃশ্যমান দেখবেন ইনশাআল্লাহ। সবাই সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ভোট কেন্দ্রে আসার এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তালিম হোসেন পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এর পরিচালনায় উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, খলিলুর রহমান গাজী, সহ-প্রশিক্ষক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শিরিন সুলতানা সুপ্ত, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুফতি সাব্বির আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও রামপুর ইউনিয়নের সমন্বয়ক আবু তাহের খোকন প্রমূখ।
অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে সার্বিক সহযোগিতা করেন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ রব পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল ইসলাম সোহেল, ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সলেমান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সুজন গাজী, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাবেক আহবায়ক মহসিন গাজী, ছাত্রনেতা আবু জাফর পাটওয়ারী, মামুন তালুকদার রফিক, সোহাগ মিজি ও শাহাদাত হোসেন পাটওয়ারী সহ দলীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডঃ জাকির হোসেন ফয়সাল, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন তালুকদার, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আবু হানিফ কাকন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জুলহাস বেপারী সহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রামপুর ইউনিয়নের ১০টি স্থানে উঠান বৈঠক, পথ সভা ও গণসংযোগে অংশ নেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’