শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে পারি, আগামীতে দেশ চালাবে জামায়াত : আবু নছর আশরাফি

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে পারি, আগামীতে দেশ চালাবে জামায়াত : আবু নছর আশরাফি

কচুয়ার দেবীপুরের পথসভায় বক্তব্য রাখছেন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কচুয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ পথসভায় সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

পথসভায় অংশ নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী কাদলা ইউনিয়নের মনপুরা, গোলবাহার, রঘুনাথপুর, দেবীপুর, দোজানা, বড়ইগাঁও, নিশ্চিন্তপুর, কাদলা বাজার গ্রাম সহ ওই ইউনিয়নের ১৫টি পয়েন্টে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে মতবিনিমিয় করেন তিনি।

এসময় তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তির কথা শুনেন ভোটারদের কাছ থেকে। দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য প্রদান কালে তিনি বলেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে পারি, আগামীতে দেশ চালাবে জামায়াত ইসলামী।

Model Hospital

আগামী সরকার জামায়াত ইসলামীর সরকার। আগামীর সরকার, রাষ্ট্র, দেশ চালাবে জামায়াতে ইসলামী। সুতরাং কচুয়ার এই আসনটি জামায়াত ইসলামের হাতে উপহার দেন। কচুয়ার এই আসন জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লায় মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।

জামায়াত ইসলামের প্রার্থী, দল আপনাদের স্বপনের কচুয়া উপহার দিবে। ১২ তারিখ সারাদিন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। দাঁড়িপাল্লা ভোট দিলে কচুয়ার জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।

এসময় জেলা নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, উপজেলা আমির অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, ইউনিয়ন জামায়াত আমীর আবু জাফর, সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন আলমগীর, সাবেক পৌর আমীর মুফতি আমিনুল ইসলাম আজহারী, সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও ভোটারগণ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’