শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আমি কোনো পারসেন্টিজ খাই না, কমিশনও খাই না : এমপি ড. জালাল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
আমি কোনো পারসেন্টিজ খাই না, কমিশনও খাই না : এমপি ড. জালাল

চাঁদপুর-২( মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. জালাল উদ্দিন বলেছেন, মাদক কারবারি ও মাদক সেবনকারীরা এবং ভুমিদস্যুদের স্থান মতলবে হবে না। কোথায় কি হচ্ছে সেরা আমার দেখার বিষয় নয়।আমার সোজা সাপটা কথা আমার নির্বাচনী এলাকায় ওইসব কর্মকান্ড করতে দেয়া হবে না এবং হবেনা। সে আমার দলের কেউ হলেও তার ঠিকানা হবে জেলখানা। এই মতলবের মাটি থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস,মাদক নির্মুল করা হবে। সন্ত্রাস-মাদক-চাঁদাবাজ নির্মুলে কোনো আপোষ নাই। অপরাধী যেই হউক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী-মাদক-চাঁদাবাজদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না।

এছাড়া থানায় গিয়েও কেউ আমার নাম ব্যবহার করলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশ সঠিক কাজ না করলে সে বিষয়ে আমাকে অবগত করবেন,আমি ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু কেউ আইন ভঙ্গ করতে পারবে না।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঢাকিরগাঁও বালুর মাঠে উপজেলা বিএনপি, মতলব পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. জালাল উদ্দিন আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবো। আপনাদের দাবিদাওয়া জানাবেন, সাধ্যমত আমি আপনাদের সন্তুষ্ট রাখব। আপনাদের সন্তুষ্ট রাখা আমার পবিত্র দায়িত্ব। আমার দায়িত্ব পালনে আমি চুল পরিমানও অবহেলা করবো না। আমি আপনাদের একজন সেবক।

Model Hospital

এমপি জালাল উদ্দিন আরো বলেন, অবৈধ পথে আমি এক টাকাও খাই না। আর আমি কোনো পারসেন্টিজ খাই না, কমিশনও খাই না। আমার নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে তাকে বেঁধে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন। আইন আইনের গতিতেই চলবে। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। থানায় বা কোনো প্রশাসনিক অফিসে এসে কেউ অভিযোগ করলে প্রশাসন অভিযোগ গ্রহন করে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে। সমাজ ও দেশের জন্য সঠিক এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাল্লাহ।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে কোথাও কোনো অনিয়ম চলবে না।

এমপি জালাল উদ্দিন আরও বলেন, চাঁদপুর-২ নির্বাচনী এলাকা ও মানুষের উন্নয়নের জন্য আমি সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদলের সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শোয়েব আহমেদ সরকারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মহসিন প্রধান, উপাদী উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন খান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম সাগর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদ হোসেন খাঁন, মতলব পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো, জাকির হোসেন,সহ-সভাপতি ডা. সোয়েব আহমেদ,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি যুবদল নেতা মো. আশরাফুর রহমান বাবু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক খোকন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোজাহিদুল ইসলাম কিরন,মতলব পৌর যুবদলের আহবায়ক মজিবুর রহমান সরকার,উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল হক জহির, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি হানিফ পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক আমির খসরু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাছির উদ্দীন মিয়াজী, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান, মতলব পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদ পারভেজ পনির, বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগন। এ সময় উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন,ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে- ওয়ার্ড,ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’