শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সাবেক এমপি হারুন অর রশিদ খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়ার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চাঁদপুরে সাবেক এমপি হারুন অর রশিদ খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়ার আয়োজন

চাঁদপুর (৩) আসন এর সাবেক দু’বারের নির্বাচিত সফল সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষা অনুরাগী মরহুম আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ খানের আজ ২২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মরহুমের মৃত্যুবার্ষীকী ঘিরে তার সুযোগ্য সন্তানরা প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ২৭ ফেব্রুয়ারী শক্রবার  ৯ম রমজান মরহুমের জন্মস্থান সফরমালী এলাকা, মতলব সহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় মিলাদ ও দোয়া এবং অসহায় গরিব মানুষদের মাঝে সাহায্য সহযোগিতার আয়োজন করেছেন।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায় মরহুম আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ খান ১৯৩৪ সালের ১লা নভেম্বর চাঁদপুর সদর উপজেলার তৎকালীন আশিকাটি ইউনিয়নের সফরমালী গ্রামের মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন ,তার পিতার নাম আলহাজ্ব সেকান্তর খান। চাঁদপুর সদরের কৃতী সন্তান মরহুম হারুন -অর- রশিদ ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর ৯ রমজান ঢাকার ইন্দিরা রোডস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

প্রতি বছরের ৯ রমজান ও ৫ নভেম্বর তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্নার শান্তি কামনায় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় মিলাদ দোয়া ও ইফতার বিতরন করা এবং অসহায় গরিব মানুষদের মাঝে সাহায্য সহযোগিতার আয়োজন করা হয়। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বিশিষ্ট রাজনৈতিবীদ চাঁদপুরের কৃত সন্তান মরহুম  আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী’র অনুপ্রেরণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। চাঁদপুর-৩ আসনের দু’দুবার নির্বাচিত সাবেক সফল সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ হারুন-অর-রশিদ খান চাঁদপুরের একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মুক্তহস্তে দানবীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি চাঁদপুর ও মতলব উপজেলায় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল-কলেজে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং সমাজের সর্বস্তরে দানবীর হিসেবে সুপরিচিত। মরহুম হারুন অর রশিদ খান সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চেয়ারম্যান পদে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অধিষ্ঠিত থেকে এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে ও উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে মরহুম আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ খান চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেট প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে অন্যতম একজন  উদ্যোক্তা ও উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৬০ সালে সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়কে মেঘনার করাল গ্রাসে পতিত হলে তার বাবা মরহুম আলহাজ্ব সেকান্তর খানের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া মরহুম হারুনুর রশিদ খান সফরমালী বাজারের প্রতিষ্ঠাতা। বাজারের আয় এর অংশ দুস্থ  মানবতার সেবা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উৎসর্গ  করেছেন যাহা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। অদ্যবধি জেলার প্রায় শতাধিক মসজিদ মাদ্রাসা উক্ত আয়ে পরিচালিত হয়ে আসতেছে এবং চাঁদপুর জেলার বাজার কেন্দ্রিক শত শত পরিবারের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করে আসছে।

Model Hospital

এছাড়াও তিনি মুন্সিরহাট দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মুন্সিরহাট কলেজের আজীবন সদস্য, মতলব বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব মোঃ সেকান্তর খান এবং মাতা জরিনা খাতুন। ছোটবেলা থেকেই তার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি মনোযোগী ছিল এবং প্রথমেই নারায়ণগঞ্জ তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

১৯৮৮ সালে তিনি সর্ব প্রথম মতলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশে জরিনা বৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারেও তার এই ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি চাঁদপুর গণি স্কুল হইতে মেট্রিক পাস করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এলাকার যুবসমাজকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহ প্রদান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণে সার্বিক সকল প্রকার সহযোগিতা করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে প্রশিক্ষণ নিতে তিনি ভারত চলে যান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন।

১৯৮২-৮৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতি সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ঢাকা’র সদস্য, ১৯৭০-৮৬ সাল পর্যন্ত হাজী মহসিন জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি, ১৯৭৮-৮৮ সময়ে ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সমিতির সহ-সভাপতি ও উপদেষ্টা ছিলেন। হারুন-অর-রশিদ খান পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা পরিচালনা করে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে যোগদান করেন।

১৯৮৬-৮৮ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচন হন। সংসদ সদস্য কালীন বিভিন্ন সময়ে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ও সাধারণ মানুষের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। চাঁদপুর জেলায় দল-মত-নির্বিশেষে তিনি ছিলেন সকলের মধ্যমণি ও সততার নিদর্শক ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’