শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি  প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি  প্রতিযোগিতা
মহান ভাষার মাস উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি  প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ) সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত  হয়েছে।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর শহর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র ভাষা বাংলা ভাষা, যা যুদ্ধ করে আমরা অর্জন করেছি। এই ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, জাব্বার শহীদ হয়েছে। আজকের এমন ইনোভেটিভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষার মাস উদযাপন করায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে এই বাংলা ভাষা মনেপ্রাণে লালন করতে হবে। যেমনি ভাবে বাংলা ভাষার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি, তেমনি ভাবে ১৯৭১ সালে আমরা একটি যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন দেশ পেয়েছি।
তিনি আরো বলেন, যে বিষয়গুলো আমরা কষ্টকর অর্জন করেছি, এগুলোকে আমাদের লালন করতে হবে। আজকে যেভাবে তোমাদেরকে তোমার পিতা-মাতা নিয়ে এসেছে ও উপস্থিত করিয়াছেন এটাও একটা যুদ্ধ। আমাদের সন্তানদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বদ্ধ করতে হবে। আমাদের মুসলমান ধর্মে দেশপ্রেম একটি ইমানের অংশ। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি যুগ উপযোগী বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই দেশকে একটা শ্রেণি ধ্বংসস্তূপে নিয়ে গেছে। এই ধ্বংসের স্তূপ থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশে দুর্নীতি সহ নানান অনিয়ম থেকে মুক্তি পেতে সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত অর্জন করতে হবে। সকল ধর্মেই দুর্নীতিকে ঘৃণা করে। মানুষ দুর্নীতি ও অপকর্ম করলে পরকালের কি শাস্তি হবে সন্তানের মাঝে সেই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লার একটি মডেল ও ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাব, এই প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মানবতার লক্ষ্যে  কাজ করছে। ভাষা দিবসে ইনোগেটিভ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে সবার আগে বাংলাদেশ। ভাষার জন্য আমরা আন্দোলন করে ১৯৫২ সালে আমাদের মাতৃভাষা ও মায়ের ভাষা অর্জন করেছি।
মহান ভাষার মাস উপলক্ষ্যে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর শহর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি।
আজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইউনেস্কো এটাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী এই মাস উদযাপন করা হচ্ছে । কবি বলেছেন তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি দিব। আজকের মায়েদের উপস্থিতি প্রমাণ করে সন্তান গড়তে মায়েদের কত ত্যাগ রয়েছে, ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছে তাদের প্রতি এই ভাষার মাসে  বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। আগামী দিনের  চাঁদপুরের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নেতৃত্বে চাঁদপুরের উন্নয়নে  প্রেসক্লাব পাশে থাকবে । আমি নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, আলিফ ল্যান্ডমার্ক ডেভেলপারস লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশি সমাজসেবক  এইচ এম জামাল সাকিব।
বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত এবং প্রতিযোগিতার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এম আর ইসলাম বাবু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম, ইব্রাহিম রনি, কোষাধ্যক্ষ কে এম সালাউদ্দিন, সদস্য সেলিম রেজা, মাওলানা আহম্মদ উল্লাহ,প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় বিচারকগণ :
সুন্দর হাতের লেখার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মিনাল সরকার ও খাদিজা ফেরদৌস লিমা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অজিত দত্ত  ও সাংবাদিক অভিজিৎ রায়, আবৃত্তির বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন  ফারজানা কুমকুম ও মিনাল সরকার।
শুরুতে পবিত্র কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করেন প্রেস ক্লাবের সদস্য মাওলানা আহমাদুল্লাহ।
এ সময় আগত অতিথিদেরকে  ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’