শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল

চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি একসাথে কাজ করতে হবে : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি একসাথে কাজ করতে হবে : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

চাঁদপুরে প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপি প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) চাঁদপুরের রেড চিলি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। সরকারিভাবে সীমিত স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অবদান অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত একটি মানবিক খাত। তাই এই খাতে যারা কাজ করেন, তাদের দায়িত্ব শুধু ব্যবসা নয়, বরং মানবসেবাও। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, সঠিক চিকিৎসা এবং নৈতিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতেও দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জনগণের আস্থা ও সেবার মান অটুট রাখবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে রোগীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষা থেকে মানবতা, সহমর্মিতা ও সেবার মানসিকতা ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. মোবারক হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন ও সংগঠনের সহ সভাপতি মো. ইউনুস উল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রবিউল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহা. মিজানুর রহমান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল হাসান ফয়সল, পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম চাঁদপুর জেলা শাখার চেয়ারম্যান ডা. সালেহ আহমেদ এবং সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. মো. জাহাঙ্গীর খান।

ইফতার মাহফিলে কোরআন তেলাওয়াত করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক শাহ জামাল গাজী সোহাগ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি মাওলানা নেছার আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি দেওয়ান সফিকুজ্জামান, ডি এম শাহজাহান, জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরা চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বি এম হান্নান, শরীফ চৌধুরীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’