শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহমাহমুদপুরে বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
শাহমাহমুদপুরে বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

শাহমাহমুদপুরে বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনার জের ধরে কয়েকজন নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মানুষগুলো।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মাসের ১৩ তারিখ রাতে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভড়ঙ্গারচর গ্রামের মৃত রফিক হাওলাদারের দোচালা বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
পরে আশপাশের বহু সংখ্যক মানুষ এসে ঘন্টাখানেক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর মধ্যে বসতঘরের প্রায় সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় বসতঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কয়েকজন কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা যায়।
বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত রফিক হাওলাদারের স্ত্রী ফরিদা বেগম সন্দেহজনকভাবে কয়েকজনকে আসামী করে তার প্রবাসী দেবর স্বপন হাওলাদার ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগম এবং কাকা শশুর শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। এমনকি আশপাশের অন্যান্য লোকজনকেও মামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।
এবিষয়ে শুক্রবার দুপুরে বাদী ফরিদা বেগমের ননস বেবি বেগম বলেন, আমার এই ছোট ভাইয়ের বউ অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির লোক। সে এবং তার ছেলে মিলে এলাকার সহজসরল মানুষদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার, তাজুল পাটওয়ারী, সাজু গাজী, আনোয়ার গাজী, তাজুল ইসলাম হাওলাদার, কলমতর খান সহ আরো কয়েকজন জানান, ওনাদের ঘরে আগুন কিভাবে লেগেছে তা কেউ বলতে পারবে না। ওনারা কেউই বাড়িতে থাকেন না। মাঝে মাঝে এসে ২-১ ঘন্টা থেকে আবার চলে যান।
ঘরের ভিতর সবসময় লাইট একটা জ্বালানো থাকে।ফ্রিজও সচল ছিল। আমাদের ধারণা মতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
মৃত রফিক হাওলাদারের ভাগিনা বিল্লাল হাজী বলেন, আমার মামা স্বপন হাওলাদার ছুটি কাটিয়ে ৯ মাস হলো প্রবাসে আছেন। তিনি আমাকে কল দিয়ে বলেন যে, কি হয়েছে বিষয়টি দেখার জন্য। আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টির সাথে জড়ালে তিনি আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেন। আমার সাথে শাহীন হাওলাদারকেও জড়ানো হয়।
এদিকে মামলার প্রধান আসামী আকলিমা বেগম বলেন, আমার ঘরের সাথেই ওনাদের ঘর। ঘটনারদিন রাতে আমি ঘর থেকে ওনাদের ঘরের কিছুর আওয়াজ শুনতে পেয়ে বাহিরে বের হয়ে দেখি ঘরের মাঝখান থেকে আগুন বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিক আমি ডাক চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আমাকে ও আমার স্বামীকে আসামী দিয়েছেন। অথচ আমার স্বামী গত ৯ মাস যাবত প্রবাসে আছে। তিনি কিভাবে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে।
আকলিমা বেগম আরো বলেন, তারা মা ছেলে মিলে প্রায় সময় আমাদের উপর অত্যাচার করে আসছেন। রাত বিরাতে বাড়িতে এসে আমাদেরকে গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকিও দিয়ে যায়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের ঘরের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে বাধ্য হই। তারা কোন প্রকৃতির লোক এলাকার কম বেশি সবাই জানে। তাদের ঘরে কিভাবে আগুন লেগেছে এলাকার কেউই জানে না অথচ ওনারা সন্দেহ করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মামলার বাদী ফরিদা বেগমের পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকায় এবং তার ছেলের মোবাইল নম্বরে শুক্রবার রাতে একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’