শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এখন বিএনপি ক্ষমতায়, তাই কোন চাঁদাবাজ নাই : ওয়াসিম পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
এখন বিএনপি ক্ষমতায়, তাই কোন চাঁদাবাজ নাই : ওয়াসিম পাটোয়ারী

চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল চাঁদপুর রির্পোট ও প্রিয় সময় এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ মার্চ ২০২৬ খ্রি. শুক্রবার বিকেলে রামপুর বাজার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যালয়ে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সাবেক ছাত্র সংসদ নেতা, জেলা ছাত্রদল ও শহর ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাফিউস সাহাদাত ওয়াসিম পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, সমাজের অসংগতি দূর করতে আলেম ওলামাদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন, সাংবাদিকরা হলো সমাজের আয়না, তাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশের মাধ্যমে দেশের আইন শৃঙ্খলা সহ সকল বিষয়ে মানুষের কল্যান বয়ে আনবে। সাংবাদিকরা যদি কারো পক্ষপাত করে তাহলে দেশের অসংগতি থেকেই যাবে। সাংবাদিকদের থাকতে হবে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয়, তাহলেই সকলের সমাজ গঠন করতে সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা যদি মনে করে যার যার সংসদীয় এলাকায় কোন চাঁদাবাজ, মাদক থাকবে না ইচ্ছা করলে সবই সম্ভব হবে। তিনি তাঁদেরকে চাঁদপুরের সকল এলাকায় সুন্দর ও সুচারুরুপে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, এখন বিএনপি ক্ষমতায়, তাই কোন চাঁদাবাজ নাই। এখন আর সেলিমের মত চাঁদাবাজ, বালুখোরদের এলাকায় ঠাই হবে না।

পরিশেষে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে আহ্বান জানান।

Model Hospital

অনলাইন নিউজ পোর্টাল চাঁদপুর রিপোর্ট ও প্রিয় সময়ের সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান রানার সভাপতিত্বে, চাঁদপুর রিপোর্টের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক একেএম গোলাম নবী খোকনের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন হাজীগঞ্জের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া বেগম, ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন, হাইমচর উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম রুবেল, দৈনিক চাঁদপুর দর্পন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সুজন চৌধুরী প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন প্রিয় সময়ের নির্বাহী সম্পাদক রাসেল খান, চাঁদপুর রিপোর্টের স্টাফ রিপোর্টার এম সাদ্দাম হোসেন, বাবুরহাট প্রতিনিধি সজীব খান, গাজী মহিসিন, স্টাফ রিপোর্টার সাখাওয়াত হোসেন সুমন বেপারী সহ সাংবাদিকবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’