শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কার হাতে উঠবে নেতৃত্ব? আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতের একাধিক প্রার্থী 

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩১ এম
হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কার হাতে উঠবে নেতৃত্ব? আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতের একাধিক প্রার্থী 

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার নাম ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডা সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আগামী দিনে কে হচ্ছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সাবেক সদস্য সচিব ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদার। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তাকে একজন গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গন ও ধর্মভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।

এছাড়াও বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম. এ. রহিম পাটওয়ারী। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে তিনিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকেও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছে। তাদের মধ্যে অন্যতম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা মোজাম্মেল হোসেন মজুমদার (পরান)। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পরিচালনা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

Model Hospital

এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা আবু জাফর। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় তার একটি শক্ত সমর্থনভিত্তি রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে। দলীয় মনোনয়ন, রাজনৈতিক সমীকরণ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন হাজীগঞ্জ উপজেলার আগামীর উপজেলা চেয়ারম্যান।

এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামীর নেতৃত্ব এমন একজনের হাতে যেতে হবে, যিনি উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে হাজীগঞ্জ উপজেলাকে এগিয়ে নিতে পারবেন।

ফলে এখন সবার নজর দলগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হতে শুরু করবে হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজনীতির নতুন সমীকরণ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’