শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পৃথিবীর সমস্ত ক্রিকেট শক্তিকে হারিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১, ৬:১৮ পিএম
পৃথিবীর সমস্ত ক্রিকেট শক্তিকে হারিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে ক্রিকেটে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই এসেছে। তিনি একজন ক্রীড়ামোদি সরকার প্রধান বিধায় আমাদের যুব ক্রিকেট দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমাদের নারী ফুটবল দল পাকিস্তানসহ আরো অনেককে হারিয়েছে। আমাদের ক্রিকেট দলও পৃথিবীর সমস্ত ক্রিকেট শক্তিকে হারিয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে খেলাধুলার উন্নয়নে প্রতি বছর ক্রীড়াসামগ্রী প্রদান করা হয়।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের উন্নয়ন হয়েছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে সরকারি-বেসরকারি সব ধরণের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কে কোন দলের, কে কোন মতের, কে কোথায় ভোট দেন, তা কখনো বিবেচনা করা হয় না।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে তথ্য মন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান, ক্রীড়াসামগ্রী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যান্সার ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের অনুদানের চেক ও স্কীম গ্রহীতাদের মাঝে সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যিনি সত্যিকার অর্থে রোগাক্রান্ত এবং দুঃস্থ তাকেই সরকারের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং আমার ব্যক্তিগত ঐচ্ছিক তহবিল থেকেও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। সেটির ক্ষেত্রেও কে কোন দলের তা কখনো দেখিনি। এটিই হচ্ছে আমাদের দলের নীতি। এ সমস্ত কারণে আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এটি অনেকে স্বীকার করতে চান না। তাই যারা এই ধরণের সহায়তা পাচ্ছেন তাদের অনুরোধ জানাবো, আপনারা যে সহায়তা পাচ্ছেন তা যেনো সবার মাঝে প্রচার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইফতেখার ইউনুসের সভাপতিতে এতে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাছান, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আকতার হোসেন খাঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এমরুল করিম রাশেদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন তালুকদার, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিগারুল ইসলাম জিগার।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানুষের কল্যাণের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেই পদক্ষেপের আওতায় প্রধানমন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের মাধ্যমে যারা ক্যান্সারসহ নানা জঠিল রোগে আক্রান্ত তাদেরকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। এই ধরণের সহায়তা অতিতে কোন সরকারের সময় করা হয়নি। এতো ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে সহায়তা কেউ আগে দেইনি। খেলাধুলার উন্নয়নের জন্যও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান, ১০টি ক্লাবকে ক্রীড়াসামগ্রী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৭৯জনকে সুদমুক্ত ঋণ এবং ২৮ জন ক্যান্সার ও জটিল রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’