শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে শত্রুতার জেরে ৭৫ শতক জমির ধান ঝলসে দেয় ও ২৫ শতক জমির কলা গাছ কর্তন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
মতলবে শত্রুতার জেরে ৭৫ শতক জমির ধান ঝলসে দেয় ও ২৫ শতক জমির কলা গাছ কর্তন
মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকায় প্রায় ৭৫ শতক ধানের জমির ধান গাছে ঘাস নিধন ঔষধ ছিটিয়ে ঝলসে দেয় এবং প্রায় ২৫ শতক বিভিন্ন প্রজাতের কলা গাছের বাগানের ফলসহ প্রায় ১২০টি কলাগাছ কেটে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
পৌর এলাকার আদুরভিটি লস্কর বাড়ীর আঃ মান্নান লম্বর এ ক্ষতি হয়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) মতলব উত্তর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আব্দুল মান্নান লস্কর বাদি হয়ে উত্তর ঠাকুরচর গ্ৰামের মৃত আঃ গফুর ছৈয়ালের ছেলে আহাম্মদ‍ আলী ছৈয়াল, আহাম্মদ আলী ছৈয়ালের ছেলে সাইফুল ইসলাম ছৈয়াল’সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহাম্মদ‌আলী ছৈয়াল একই ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোক। তার সাথে আমার পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে   আবদুল মান্নান লস্কর ও তার পরিবারের লোকজনদেরকে হুমকি ধামকি সহ ক্ষতি সাধনের চেস্টা করে আসছে। তবে উক্ত বিরোধ স্থানীয় ভাবে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিমাংসার চেস্টা করলেও বিবাদীরা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কোন কথার কর্নপাত না করে সর্বদাই মারধর করার চেস্টা সহ প্রাননাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।
সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল তারিখে তাদের সাথে নিয়ে ছেংগারচর বাজার গোহাটে দেখতে পেয়ে আক্রমন করে লাঠি সোটা নিয়া মারধরের চেষ্টা করে। আশপাশ হতে লোকজন এসে তাদের প্রতিহত করে।‌এবংএ সময় তারা প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিয়া বলে যে কোন সময় আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, ফসলী জমির ফসল ও বাড়ী ঘর অগ্নিসংযোগ ঘটাইয়া ক্ষতি সাধন করব।
আব্দুল মান্নান লস্কর বলেছেন, আমাকে ও আমার পরিবারের সকল লোকজনদেরকে স্বপরিবারে খুন খারাবী করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে।
আমি উক্ত হুমকি ধামকির বিষয়ে আতংকিত হইয়া এলাকার লোকজন সহ গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবহিত করে রাখার একপর্যায়, ১৩ এপ্রিল তারিখ সকাল অনুমান ৭টাঢ় ঘটনাস্থল আমার ফসলী মাঠে ধানের ফসল ও তারই পার্শ্বে কলা বাগান দেখার জন্য যাই।
আমি উক্ত সময় লক্ষ্য করি আমার প্রায় ৭৫ শতক ধানের জমির ধান গাছে ঘাস নিধন ঔষধ ছিটিয়ে ঝলসে দেয় এবং প্রায় ২৫ শতক বিভিন্ন প্রজাতের কলা গাছের বাগানের ফলসহ প্রায় ১২০টি কলাগাছ কাটিয়া সর্বসাকুলে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আহাম্মদ আলী ছৈয়ালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এব‍্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ফসল ক্ষতির সংক্রান্ত ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’